Monday, May 18, 2026

দেবজ্যোতি মিশ্রের ‘আলোপাখির গান’, চাঁদের হাট জিডি বিড়লা সভাঘরে

Date:

Share post:

সুরের কোনো সীমানা হয় না। দেশকাল ও ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে সুরই মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে। বাংলা তথা ভারতীয় সঙ্গীত জগতের তেমনই এক অগ্রগণ্য সুরসাধক দেবজ্যোতি মিশ্র (Debjyoti Mishra)। গত তিন দশক ধরে চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন কিংবা আধুনিক বাংলা গানের জগতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বাঙালির ড্রয়িংরুম পেরিয়ে বিশ্ব সঙ্গীতের আঙিনাতেও বারবার প্রশংসিত হয়েছে তাঁর কাজ। স্বতন্ত্র সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে দেবজ্যোতি মিশ্রের এই গৌরবময় ৩০ বছরের জার্নিকে কুর্নিশ জানাতেই কলকাতায় (Kolkata) আয়োজিত হতে চলেছে এক বিশেষ সঙ্গীত সন্ধ্যা— “আলোপাখির গান”(Alopakhir Gaan)। আগামী ২৪ মে, ২০২৬ (রবিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়, কলকাতার জি.ডি. বিড়লা সভাঘরে বসতে চলেছে এই সুরের আসর। ব্যতিক্রমী এই সন্ধ্যার আয়োজনে রয়েছে ‘বেঙ্গল ওয়েব সলিউশন’।বর্তমান সময়ে চারিদিকের যুদ্ধ ও সামাজিক অস্থিরতার আবহে সঙ্গীতই যে একমাত্র শুশ্রূষা এবং মানুষের হাতে হাত রেখে চলার মাধ্যম, সেই বার্তাই দেবে এই অনুষ্ঠান। সঙ্গীত পরিচালক দেবজ্যোতি মিশ্রের কথায়, “এই অনুষ্ঠান আসলে বন্ধুত্বের এক সুরেলা উদযাপন। আমার সাথে ঋতুপর্ণ ঘোষের বন্ধুত্ব, বাংলা বিজ্ঞাপন জগতের সাথে আমার মেলবন্ধন, আধুনিক বাংলা গানের পাশাপাশি বিভিন্ন চলচ্চিত্র পরিচালকদের সাথে আমার জার্নি, আমার কণ্ঠশিল্পী, বাদ্যযন্ত্রী, গীতিকার এবং সর্বোপরি শ্রোতাদের সাথে বন্ধুত্বের এক ভালোবাসার সন্ধ্যা হয়ে থাকবে এটি।”এদিনের অনুষ্ঠানটি শুধু গানের নয়, হতে চলেছে গল্প ও আড্ডারও। দেবজ্যোতি মিশ্রের সঙ্গে যৌথভাবে কথাবর্তা ও স্মৃতির সরণি বেয়ে অনুষ্ঠানটি এগিয়ে নিয়ে যাবেন জনপ্রিয় গায়ক ও সঙ্গীত পরিচালক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। দেবজ্যোতি মিশ্রের কালজয়ী সৃষ্টিগুলিকে এই বিশেষ সন্ধ্যায় শ্রোতাদের সামনে নতুন করে পরিবেশন করবেন টলিউডের প্রথম সারির কণ্ঠশিল্পীরা। আমন্ত্রিত শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন, স্বাগতালক্ষী দাশগুপ্ত, রূপঙ্কর বাগচী, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, উপল সেনগুপ্ত, অর্ক মুখোপাধ্যায়, অন্বেষা দত্ত গুপ্ত, স্যামন্তক সিনহা, পরশীয়া সেন, অরিত্র দাশগুপ্ত, সোনাক্ষী কর এবং অ্যানি আহমেদ। মঞ্চে পারফর্ম করবেন স্বয়ং দেবজ্যোতি মিশ্রও।বিগত ৩০ বছরে দেবজ্যোতি মিশ্র বাঙালিকে উপহার দিয়েছেন একের পর এক চিরসবুজ গান। এদিনের অনুষ্ঠানে স্বাভাবিকভাবেই শ্রোতাদের প্রত্যাশা থাকবে তাঁর জনপ্রিয় কিছু সৃষ্টির ওপর। তালিকায় রয়েছে— ‘আমার দক্ষিণ খোলা জানলা’, ‘মেঘের পালক, চাঁদের নোলোক’, ‘চল রাস্তায় সাজি ট্রাম লাইন’, ‘সখি হাম’, ‘মথুরানগরপতি’, ‘পিয়া তোরা ক্যায়সা অভিমান’, ‘মেঘ পিয়নের ব্যাগের ভেতর’, ‘যেকোনো ভূমিকায়’, ‘এক যে আছে কন্যা’ কিংবা ‘তোমায় মনে পড়ছিল’-র মতো জনপ্রিয় সব গান। মে মাসের এই মনোরম সন্ধ্যায় শহরের সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য ‘আলোপাখির গান’ এক অনন্য নস্টালজিক উপহার হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। 

Related articles

FIR খারিজের আবেদন জানিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক

ভোট প্রচারে উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে বিধাননগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় হওয়া এফআইআরের খারিজের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাই...

সংখ্যালঘু ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নেদারল্যান্ডসের কটাক্ষ, কড়া জবাব ভারতের

ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, তার...

কোর্টের লড়াইয়ে স্বস্তি বিসিসিআই, জ্বালানি সংকটের মধ্যেও চলবে আইপিএল?

মাঠের বাইরে কোর্টের লড়াইয়ে বড় জয় বিসিসিআই(BCCI)। আরটিআইয়ের (RTI) আওতায় পড়বে না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ৮ বছর ধরে...

জাতীয় শিক্ষা নীতির আওতায় আসছে বাংলা, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই জাতীয় শিক্ষা নীতির আওতায় আসছে বাংলা। রাজ্যের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী...