পরিকল্পনা মতো রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্প: নাম বদলে হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ রাজ্যের

Date:

Share post:

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়ে দিয়েছেন ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্টের। এরপরই গোটা রাজ্যে তৎপরতার সঙ্গে বিদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরার কাজ শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর এবার নির্দেশ এলো দিল্লি থেকে। কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MEA) নির্দেশেই রাজ্যের প্রত্যেক জেলা শাসকের (District Magistrate) জন্য নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার। প্রতি জেলায় ডিটেনশন সেন্টার (detention centre) তৈরির নির্দেশ দেওয়া হল। শুধু নাম বদলে সেখানে হোল্ডিং সেন্টার (Holding Centres) করার কথা বলা হয়েছে শনিবার প্রকাশিত নির্দেশিকায়।

অসমের মডেলেই যে বাংলা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের ধরে বাংলাদেশ বা মায়ানমারে পাঠানোর পথে যাচ্ছে বাংলার বিজেপি সরকার, তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন এলাকা থেকে অবৈধ নাগরিকদের (illegal residents) ধরে নাগরিকত্ব (citizenship) যাচাই করার। তারপর সরাসরি বিএসএফ-এর (BSF) সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই অবৈধ নাগরিকদের বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার খোলা ছাড়পত্র দিয়েছিলেন তিনি। বিএসএফ সরাসরি বাংলাদেশের বিডিআর-এর (BDR) সঙ্গে কথা বলে বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে, নবান্ন থেকে ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তবে তাঁর পদ্ধতিতে কিছুটা ব্যতিক্রম আনল কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাঁরা অসমের ডিপোর্ট নীতি প্রয়োগ শুরু করল বাংলাতেও। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MEA) নির্দেশে রাজ্যের হোম অ্যান্ড হিল অ্যাফেয়ার্স দফতরের জারি করা নির্দেশিকায় রাজ্যের সব জেলা শাসকদের (DM) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তাঁরা হোল্ডিং সেন্টার (Holding Centres) তৈরি করেন। কীভাবে সেই হোল্ডিং সেন্টার তৈরি হবে, তা নিয়ে আট পাতার আলাদা নির্দেশিকাও পাঠানো হয়েছে জেলা শাসকদের। এই কাজে জেলা পুলিশ সুপার থেকে রাজ্যে ডিজিপি পর্যন্ত পদাধিকারীদের জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : গ্রেফতার হবে ছেলে! ঘুম উড়েছে CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিতের বাবা-মায়ের

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের জন্য এই হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে রাখা হবে। যে ব্যক্তি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বলে চিহ্নিত হবেন, তাঁকে এই হোল্ডিং সেন্টার রাখা হবে। এরপরে যাঁদের বিদেশে ফেরৎ পাঠানো হবে তাঁরাও ডিপোর্টের আগে এই হোল্ডিং সেন্টারে অপেক্ষা করবেন। কার্যত নির্বাচনের আগে যেভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ঘোষণা করেছিলেন, তা-ই কাজে পরিণত করা শুরু হল।

spot_img

Related articles

বুদ্ধিজীবীরা নীরব কেন? বাংলায় ফের গণধর্ষণে সরব বিরোধীরা

নারী সুরক্ষার একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে নতুন সরকার। কিন্তু খোদ শাসকের সেই আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির পরেও...

দৃষ্টিহীনের সুরের লড়াই! রূপোলি পর্দায় দৃষ্টিহীনদের যাপনচিত্র নিয়ে এল ‘আঁখি’

চোখের আলো নেই, কিন্তু মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা সুরের জোরেই সমাজের মূল স্রোতে জায়গা করে নেওয়ার অদম্য লড়াই।...

তৃণমূল ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া: মমতাকে চিঠি

কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল হয়ে এবার কি বিজেপির পথে মানস ভুঁইয়া? তৃণমূলের দুঃসময়ে যখন বিধায়ক থেকে সাংসদরা দল ছেড়ে...

নীরব-মামলায় পিএনবি কর্তাদের ক্লিনচিট দিল সিবিআই, বিশেষ আদালত থেকে মামলা সরল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে

পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) জালিয়াতি মামলায় বড়সড় মোড়। পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার...