একই দিনে কলকাতা পুরসভার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়লেন সুশান্ত ঘোষ (Sushanta Ghosh) ও অরূপ চক্রবর্তী (Arup Chakraborty)। ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুশান্ত। আর পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেন অরূপ। এর পরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুশান্ত জানান, আমরা হতাশ তৃণমূল (TMC)। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য না করলেও, দলীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে দুই তৃণমূল নেতা।
সুশান্ত ১০৮ নম্বর ও অরূপ ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। বুধবার কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন সুশান্ত ঘোষ (Sushanta Ghosh)। পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেন অরূপ। পরে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘরে পদত্যাগপত্র জমা দেন তাঁরা। পদ থেকে ইস্তফা দিলেও কাউন্সিলর পদ এখনই ছাড়ছেন না বলে জানিয়েছেন দুজনই।

সাংবাদিক বৈঠক করে অরূপ বলেন, “ভোটের এই ফল কাম্য ছিল না। তবে মানুষের রায়কে মাথা পেতে নিতে হবে। হার স্বীকার করতে না-পারলে আগের জয় মিথ্যা হয়ে যায়। দলের কর্মীরা এখন বিপদে। এত দিন যাঁরা মন্ত্রী ছিলেন, যাঁরা এত দিন সুবিধা নিয়েছিলেন, তাঁরা এখন কোথায়?“

সেই কথার রেশে টেনেই সুশান্ত বলেন, এই রেজাল্ট কাম্য ছিল না। আমার ওয়ার্ডে প্রায় ১৫০ ছেলে পাড়া ছাড়া। গত কয়েকদিনে যে সকল বড় বড় মন্ত্রীরা Z প্লাস-Y প্লাস নিয়ে ঘুরে বেড়াতে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এক-একজনের বড় বড় জেলার দায়িত্ব ছিল। এদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ঘেঁষতে পারতাম না। বিজেপিকে ধন্যবাদ। ওদের জন্য অনেককে ঘরে ফেরাতে পেরেছি। বাকিদের ফিরিয়ে আনলে আমাদের দায়িত্ব শেষ।

দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে তৃণমূল কাউন্সিল তথা মুখপাত্র অরূপ বলেন, “দল মানে কারা? মমতাদি অভিষেক ছাড়া বাকি নেতৃত্ব কই? বাকি কেষ্টু-বিষ্টুরা কই? যাঁদের কনভয়ের আগে চারটে পাঁচটা করে গাড়ি থাকে? তাঁরা কই। আজ জনাদেষ আমাদের বিপক্ষে গেছে আমাদের মানতে হবে। হার স্বীকার করতে হবে। ছাব্বিশের হার না মানা মানে বাকি জয়গুলো মিথ্যা হয়ে যায়। এটাই মানতে হবে। গণতন্ত্রে মানুষের রায় মান্যতা দিতে হবে।“ অরূপের কথায়, “আমি কয়েকটা পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। কেউ ক্ষমতায় সারাজীবন ক্ষমতায় থাকবে না। সিপিএম ভেবেছিল থাকবে এখন নেই। মমতার বাড়িতে রবীন্দ্র-জয়ন্তী অনুষ্ঠান হচ্ছে, তখন সেই সেলিব্রেটিরা কোথায়? নীচুতলার কর্মীরা মুখ বুজে দাঁড়িয়েছি।“

তবে, দুই তৃণমূল নেতার কেউই দলনেত্রীর প্রতি বিরূপ নন বলে জানিয়েছেন। অরূপের কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ হেরেছেন। কিন্তু মমতাদিকে মূল্যায়ন করার ধৃষ্টতা আমাদের নেই। ওঁর প্রতি এখনও মানুষের আবেগ আছে।“
আরও খবর: পরিচালক অনীক দত্তের রহস্যমৃত্যু! হতবাক টলিউড

তাঁর উপর আক্রমণের প্রসঙ্গে তুলে সুশান্ত ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা নেতারা এখন কোথায়? গত পনেরোবছর দলের সঙ্গে লড়েছি। ২০ সালে আমার উপর আক্রমণ হয়। চব্বিশ সালে আক্রমণ হয়। অবাক ব্যাপার, আমার সরকার ঠিক করে তদন্ত করেনি! অদ্ভুত ভাবে প্রধান দুষ্কৃতীর জামিন হয়। আমি নিজের পার্সোনাল আইনজীবীর সাহায্য় নিয়ে বাকি অভিযুক্তদের আটকে রেখেছি। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব এই তদন্তটা দেখতে।“

–
–
–
