বিশ্বভারতীর শতবর্ষ ও মহাত্মা গান্ধির সার্ধোশতবর্ষ উপলক্ষে পঞ্চাশতম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শকের ভাষণের বেশির ভাগ জায়গা জুড়ে ছিল এই দুই মণীষীর কথা।
রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বলেন, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিতে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন এই বিশ্বভারতী। শান্তিনিকেতনকে মতবাদ তৈরির আঁতুড়ঘর হিসেবেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। ভারতীয় ঐতিহ্যকে বজায় রেখেই সারা বিশ্বের সাংস্কৃতিক ধ্যানধারণাকে স্বাগত জানিয়েছিল বিশ্বভারতী। এই প্রতিষ্ঠানের জন্য আমরা গর্বিত বলেও জানান তিনি।

বিশ্বভারতীর প্রাক্তনীরা বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ইন্দিরা গান্ধি থেকে অমর্ত্য সেন-এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতার স্বপ্নকেই শুধু বাস্তবায়িত করেননি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাধীন ভারতকে এক অন্যমাত্রায় নিয়ে যেতে নিজেদের অবদান রেখেছেন। রাষ্ট্রপতির মতে, রবীন্দ্রনাথ অন্তরাত্মার চাহিদাকে পূরণ করার শিক্ষা দিয়েছিলেন। এই লক্ষ্যে তিনি অনুভব করেছিলেন, দর্শন, সাহিত্য বা ইতিহাসের মতো বিষয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেই চলবে না, সঙ্গীত, অঙ্কন ও চারুকলার মধ্য দিয়ে তাদের অন্তরাত্মাকে জাগ্রত করে তুলতে হবে। চাহিদা অনুযায়ী এখানে কৃষিবিদ্যা পড়ানোরও ব্যবস্থা ছিল। গ্রামীণ এলাকার পুনর্গঠন ও গ্রামোন্নয়নের জন্য শ্রীনিকেতনেও একটি কেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন রবি ঠাকুর। অন্তরাত্মা বিকাশের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধিজির সামঞ্জস্যের কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
