Saturday, March 14, 2026

মুর্শিদাবাদে গুলি, ভাঙড়ে হাতাহাতি, নন্দীগ্রামে ভাঙচুর! রাজনৈতিক সংঘর্ষে বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন?

Date:

Share post:

একুশের হাইভোল্টেজ নির্বাচনে (Assembly Election)
ইতিমধ্যেই দু’দফায় ভোট গ্রহণ সাঙ্গ হয়েছে। এখনও বাকি ৬ দফা। তার মধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ (Political Tension) আরও বাড়ছে। গুলি, বোমা, মারপিট-সহ রাজনৈতিক সংঘর্ষের খবর আসছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। প্রশ্ন উঠছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CRPF) ভূমিকা নিয়ে। ভোটের দিনগুলিতে অতিসক্রিয়তা দেখালেও অন্য সময় বাহিনীর নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠছে। নির্বাচন কমিশনের (EC) ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে।

দলীয় দলীয় পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে ফের সংঘর্ষে জরালো তৃণমূল (TMC) ও ISF. অভিযোগ, আইএসএফ-কে পতাকা লাগাতে বাধা দেয় তৃণমূল। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় (Bhangar) বিধানসভা কেএলসি থানার বামনঘাটা এলাকায়।

আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদের দাবি, তাঁরা যখন দলীয় পতাকা লাগাচ্ছিলেন, তখন একদল তৃণমূল কর্মী এসে তাঁদের পতাকা লাগাতে বাঁধা দেন। শুরু হয় বচসা। সেখান থেকে হাতাহাতি। ISF কর্মীদের একাধিক হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। কেএলসি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরা। তৃণমূলের পাল্টা দাবি, গণ্ডগোল শুরু করেছে
ISF. মিথ্যা অভিযোগ করে শান্ত ভাঙড়কে অশান্ত করছে আব্বাস সিদ্দিকির ছেলেরা।

অন্যদিকে, কংগ্রেস (Congress) কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে মুর্শিদাবাদে (Murshidabad)। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যান ওই কংগ্রেস কর্মী। অভিযোগের তির তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত কান্দি লোহাপোটি এলাকায়।

কংগ্রেসের দাবি, চঞ্চল বারিক নামে ওই কর্মী দেওয়াল লিখনের কাজ করছিলেন। তখনই হঠাৎ কিছু দুস্কৃতী এসে প্রথমে মারধর শুরু করে তাঁকে। এরপর চঞ্চলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এই ঘটনায় কান্দি থানার বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস।

কান্দি বাজারে আলুপট্টি এলাকায় এক বিজেপি (BJP) সমর্থকের দোকানেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। যদিও দুটি ঘটনাই অস্বীকার করেছে তৃণমূল। শাসক শিবিরের পাল্টা দাবি, কংগ্রেস ও বিজেপির দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জন্যই এমন ঘটনা। এর সঙ্গে তৃণমূলের কেউ জড়িত নয়। তৃণমূলকে বদনাম করার জন্যই এসব করছে কংগ্রেস ও বিজেপি।

এদিকে, নন্দীগ্রামে (Nandigram) ভোট পরবর্তী অশান্তি অব্যাহত। বোয়াল, গোকুলনগরে বিজেপি কর্মীদের ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পাল্টা তৃণমূলের দাবি, বিজেপির পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয় প্রথমে। সেটাকে প্রতিহত করেছেন গ্রামবাসীরা।

তবে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলো এই ঘটনার জন্য নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বাহিনী। রাজনৈতিক সংঘর্ষ রুখতেও সচেষ্ট নয় তারা, এমনটাই অভিযোগ উঠছে রাজ্যজুড়ে।

Advt

spot_img

Related articles

হরমুজ থেকে ভারতের দিকে রওনা দিল জাহাজ: আসছে এলপিজি ট্যাঙ্ক

অবশেষে হরমুজে আটকে থাকা ভারতের জাহাজগুলিকে ছাড়ার অনুমতি দিল ইরান। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ব হরমুজে (Strait of...

সাপ্লিমেন্টারি তালিকা কবে? কমিশনের কর্মশালায় একগুচ্ছ প্রশ্ন তৃণমূলের 

বিধানসভা ভোটের রণদামামা বাজার আগেই ভোটার তালিকা নিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা আরও একবার স্পষ্ট করল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার...

মোদি রাজ্যে পা রাখার আগেই ‘গো ব্যাক’! বিরাট হোর্ডিং শহরজুড়ে

বিজেপির রাজ্য নেতাদের কলঙ্কিত অত্যাচারে বিধ্বস্ত গোটা বাংলা। বারবার তাঁদের ডেইলি প্যাসেঞ্জার জাতীয় নেতারা এসে যে পেপ-টক দেওয়ার...

কর্মীদের চোখের চিকিৎসায় উদ্যোগী মার্লিন গোষ্ঠী, দুই কেন্দ্রে আয়োজিত হল পরীক্ষা শিবির 

কর্মীদের শারীরিক সুস্থতা ও স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে অভিনব উদ্যোগ নিল দেশের অন্যতম আবাসন নির্মাণকারী সংস্থা মার্লিন গোষ্ঠী।...