Tuesday, June 2, 2026

হারার কারন খুঁজতে নেমে বিপাকে অমিত শাহ

Date:

Share post:

রাজ্যে ষষ্ঠ দফার ভোটের পর থেকেই কার্যত নিখোঁজ বিজেপির বাংলা দখল অভিযানের প্রধান সেনাপতি অমিত শাহ৷ রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, তখনই তিনি ধরে ফেলেছিলেন গেরুয়া বেলুনের হাওয়া দ্রুত বেরিয়ে যাচ্ছে৷ কমিশনের করোনা-ফতোয়াকে হাতিয়ার করে সেই যে দিল্লি ফিরেছেন, তার পর থেকে আর খবরই পাওয়া যায়নি৷

শেষপর্যন্ত বঙ্গ-বিজেপি হদিশ পেয়েছে শাহের (Amit Shah)৷ গেরুয়া- সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যের নিচুতলার বিজেপি (BJP) কর্মীদের কাছে দিল্লি থেকে ফোন আসা শুরু হয়েছে। অমিত শাহ নাকি লজ্জাজনক পরাজয়ের কারন খুঁজতে নেমেছেন৷ শাহি-নির্দেশেই বাংলায় বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করছেন অমিতের দফতরের একদল কর্মী।

কেন এই হার? জানা গিয়েছে, নিচুতলার কর্মীরা দিল্লিকে এর কারন হিসাবে যা যা বলছেন, তাতে বঙ্গ-বিজেপির নেতারা তো বটেই, দিল্লির নেতারাও একের পর এক কাঠগড়ায় উঠছেন৷ বাদ যাচ্ছেন না মোদি-শাহও৷

কর্মীদের মারফৎ বিজেপি’র এই ভরাডুবির কারণ হিসাবে দিল্লি জেনেছে,

১) চরম সাংগঠনিক দুর্বলতা ৷

২) বিজেপি-র রাজ্য তথা জেলার নেতাদের মাত্রাছাড়া আত্মতুষ্টি ৷

৩) কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ৷

৪) বাংলাজুড়ে ভিনরাজ্যের নেতাদের হিন্দি ভাষায় বক্তৃতার জোয়ার ৷

৫) প্রধানমন্ত্রীর মুখে ‘দিদি, ও দিদি’ জাতীয় শব্দবন্ধ ৷

৬) অতিরিক্ত ‘জয় শ্রীরাম’ তথা ধর্মীয় মেরুকরণ ৷

৭) দিল্লির শীর্ষনেতাদের কথায় রাজ্য নেতাদের
‘গেরুয়া-হাওয়া’র উপর ভরসা করা৷

৮) দলের অন্দরে আদি- নব্য দ্বন্দ্ব৷

৯) তৃণমূল থেকে আসা সাংগঠনিক নেতাদের একাংশকে সে ভাবে বড় কোনও সাংগঠনিক দায়িত্ব না দেওয়া৷

১০) বুথ স্তরের সংগঠন না থাকায় ভোট প্রচারে অনেকটা পিছিয়ে শুরু করা৷ বাড়ি বাড়ি ভোটার স্লিপ বিলি করতে না পারা৷

১১) ভোটের দিন বেশিরভাগ বুথে এজেন্ট দেওয়া যায়নি৷ গণনার দিনও এজেন্ট দেওয়া যায়নি।

১২) রাজ্য নেতারা প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে ব্যর্থ হওয়ায় যে সব জায়গায় তৃণমূলের জেতার কথা নয়, সেখানেও বিজেপি প্রার্থী হেরেছে৷

১৩) প্রাথী বাছাইয়ে নিচুতলার কর্মীদের লিখিত মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া৷ স্বপন দাশগুপ্তকে গ্রামীণ কেন্দ্রে প্রার্থী করা, দু’বারের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়কে নিজের কেন্দ্রে প্রার্থী না করা, কল্যাণ চৌবেকে কৃষ্ণনগরে প্রার্থী না করা ইত্যাদি দিল্লির সিদ্ধান্ত ভুল ছিলো৷

নিচুতলার কর্মীদের কাছ থেকে পরাজয়ের কারন জানতে গিয়ে কার্যত ফেঁসেছেন অমিত শাহ নিজেই৷ কর্মীরা যে ধরনের গলদের কথা তুলে ধরছেন, তার প্রতিটির পিছনেই সায় ছিলো অমিত শাহের নির্দেশ৷ ফলে এই পরাজয়ের জন্য
রাজ্য কমিটিকে নিশানা করে নিজেদের দায় এড়ানোর শাহি-কৌশল কার্যত ব্যুমেরাং হতে চলেছে৷

আরও পড়ুন:মেদিনীপুরে দুষ্কৃতী হামলার শিকার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, অভিযোগ- পাল্টা অভিযোগে সরগরম রাজনীতি

Advt

 

Related articles

‘তোলাবাজি’র অভিযোগে এফআইআর পদত্যাগী কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে

কয়েক কোটি টাকা 'তোলাবাজি'র অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের পদত্যাগী কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই দায়ের করা হল এফআইআর। ১০৮...

আবেগে-ভালোবাসায় টুটু স্মরণ, প্রাণ পুরুষকে অনন্য সম্মান দেওয়ার ভাবনা বাগানের

সোমবার নেতাজি ইন্টার স্টেডিয়ামে প্রয়াত  টুটু বোসের  (Tutu Bose) স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হলো।এই সভায় উপস্থিত ছিলেন মাজের বিভিন্ন...

রাজনীতিমুক্ত হোক খেলার ময়দান, এক সুর শাসক-বিরোধী থেকে প্রাক্তনীদের

রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ। ক্রীড়া ক্ষেত্রকে (Sports sector)রাজনীতির(Politics)  প্রভাব মুক্ত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।...

কথা দিয়েও কথা রাখল না প্রশাসন, মঙ্গলাহাটে পুলিশের লাঠিচার্জে ধুন্ধুমার

কথা দিয়েও কথা রাখল না হাওড়া জেলার পুলিশ ও প্রশাসন। সোমবার ভোররাত থেকে এশিয়ার বৃহত্তম কাপড়ের হাট, মঙ্গলাহাটের...