Wednesday, March 11, 2026

আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ খারিজ

Date:

Share post:

মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজ করে দেওয়া হল।লোকসভার স্পিকার এই বিষয়ে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রস্তাব পাশ করান লোকসভায়। বহিষ্কারের পর সংসদের বাইরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মহুয়া মৈত্র।বলেন,নারীবিদ্বেষী মনোভাবের প্রকাশ বিজপি সরকারের। কোনও  কথা বলার সুযোগ না দিয়েই একতরফা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত।কালই হয়তো বাড়িতে সিবিআই যাবে, আশঙ্কা মহুয়ার।

এদিন দুপুর ১২টায় তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট পেশ করেন লোকসভার এথিক্স কমিটির প্রধান তথা বিজেপি (BJP) সাংসদ বিজয় সোনকার। জল্পনা মতোই ওই রিপোর্টে মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। যদিও রিপোর্টটি পেশের পরই চূড়ান্ত হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। যার জেরে অধিবেশন দুপুর দুটো পর্যন্ত মূলতুবি করে দিতে হয়। তবে অধিবেশন ফের শুরু হতেই মহুয়া ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্পিকার। বলে দেন, সংসদের মর্যাদাহানি হোক, এমন কোনও বিষয়ই মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে অনেক কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। একইসঙ্গে এনিয়ে আলোচনার জন্য আধঘণ্টা সময় বেধে দেন ওম বিড়লা।

মহুয়া মৈত্রকে বলার সুযোগ দিলেন না স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি জানান, মহুয়া আগে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। তাই আবার তাঁকে সুযোগ দেওয়া হবে না। পুরনো উদাহরণ টেনে এই যুক্তি দিয়েছেন স্পিকার। মহুয়া বলার জন্য একাধিক বার উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে বসিয়ে দেওয়া হয়।

বিজেপির তরফে সাংসদ অপরাজিতা সরঙ্গি বলেন, ‘‘মহুয়াকে বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সুযোগ পেলেও তখন কিছু বলেননি। ওয়াক আউট করে গিয়েছিলেন।’’

তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তৃণমূলের তরফে তিনি কথা বলবেন না। কথা বলবেন মহুয়া নিজে।কিন্তু স্পিকার সেই কথায় কর্ণপাত করেননি।সুদীপ দুদিন সময় চান রিপোর্ট পড়ার জন্য। কারণ, তার যুক্তি ৪৫৫ পাতার রিপোর্ট আধ ঘণ্টার মধ্যে পড়ে ফেলা সম্ভব নয়। যদিও বিজেপি সাংসদ হীনা গাবিত জানান, তিনি দু’ঘণ্টাতেই এথিক্স কমিটির রিপোর্ট পড়ে ফেলেছেন। এ বিষয়ে লোকসভার অতীতের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি জানান, আগেও লোকসভা থেকে ঘুষ নেওয়ার অপরাধে সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি বলেন, ‘‘১২টায় রিপোর্ট পেশ করে ২টোয় তা নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিক নয়। তিন-চার দিন রিপোর্ট পড়ার জন্য সময় দিলে পৃথিবী উল্টে যাবে না। বিচারব্যবস্থার সাধারণ নিয়ম এখানে মানা হচ্ছে না। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁকে কথাই বলতে দেওয়া হচ্ছে না। তা ছাড়া, এথিক্স কমিটি শুধু সুপারিশ করতে পারে। কী সাজা হবে, তা তারা ঠিক করে দিতে পারে না।’’

লোকসভায় স্পিকারের উদ্দেশে কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‘এত বড় চিঠি এত কম সময়ে পড়া সম্ভব নয়। ভাল করে পড়ে এটা নিয়ে চর্চা করা উচিত। আদালতেও কারও সাজা হলে বিচারক আসামির বক্তব্য শোনেন। কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে, তাঁকে বলার সুযোগ দেওয়া উচিত।

spot_img

Related articles

কয়লা মামলায় মনোরঞ্জনের বাড়িতে ইডি অভিযান, শুক্রবার হাজিরার নির্দেশ 

বুধবার সকালে রাজ্য পুলিশের আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডলের (Manoranjan Mondal) বাড়িতে ইডি অভিযান (ED Raid Durgapur)। কয়লা পাচার মামলার...

আকাশছোঁয়া সাফল্য আর তীব্র সমালোচনার মাঝেই কর্মবিরতিতে বরুণ ধাওয়ান

বড় সিদ্ধান্ত বলিউডের হার্টথ্রব বরুণ ধাওয়ানের (Varun Dhawan)। ‘বর্ডার ২’ ছবিতে তাঁর অভিনয় নিয়ে নিন্দুকেরা প্রশ্ন তুললেও, বক্সঅফিস...

আজই কলকাতায় আসছেন আর এন রবি, বৃহস্পতিতে শপথ গ্রহণ বাংলার নতুন রাজ্যপালের

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে আগামী ১২ মার্চ শপথ নেবেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি (Ravindra Narayana Ravi)। বুধবার সন্ধ্যায় চেন্নাই থেকে...

সুপ্রিম কোর্টে ‘বাঙালি আড্ডা’! মেনকাকে ‘উপদেশ’ বিচারপতি বাগচির

দেশের শীর্ষ আদালতে রাজ্যের এসআইআর মামলায় একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির ভুল ধরেছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি (Justice Joymalya...