Monday, January 12, 2026

সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনের নেপথ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদীরাই? প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে হাসিনা সরকারের দাবিকেই মান্যতা!

Date:

Share post:

বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলনের (Quota reformation demand) জেরে অস্থির পরিস্থিতি আপাতত অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। একে একে স্বাভাবিক হচ্ছে সরকারি -বেসরকারি পরিষেবা। আগামী তিন দিন (২৮ থেকে ৩০ জুলাই) সরকারি-বেসরকারি অফিস ৬ ঘণ্টা করে চলবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। প্রায় দশ দিন পর ইন্টারনেট চালু হাসিনার দেশে। আর তারপরেই উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সশস্ত্র আন্দোলনের সময়কার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকের এক ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল হয়েছে। তাঁর চোখের সামনে পুলিশকর্মীকে যেভাবে লাঠির রড দিয়ে পিটিয়ে মাথার ঘিলু বের করে দেওয়া হয়েছে সেটা কোনও পড়ুয়ার কাজ নয় বলেই দাবি সাংবাদিকের।

গত ১৮ জুলাই মহিলা সাংবাদিক অফিসে যাওয়ার সময় হাতিরঝিল এলাকায় বিক্ষোভের মধ্যে পড়েন। সেদিনের ঘটনা মনে করে এখনও শিউরে উঠছেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক জানিয়েছেন, তাঁর চোখের সামনে এক পুলিশ কর্মীকে লোহার রড দিয়ে মারতে মারতে টেনে নিয়ে যান বিক্ষোভকারীরা। তিনি ওই কর্মীকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন কিন্তু ওই অবস্থায় মহিলা সাংবাদিককে উদ্ধার করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যান পড়ুয়ারা। তা না হলে সাংবাদিকের জীবন বিপন্ন হতে পারতো বলে জানিয়েছিলেন তাঁরা। মহিলা বলেন যে নৃশংসতার সঙ্গে পুলিশের উপর আক্রমণ হচ্ছিল সেটা কখনই পড়ুয়াদের কাজ হতে পারে না। এর নেপথ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর মদতের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। যেভাবে নেশাগ্রস্ত কিছু মানুষ হাতে গাছের ডাল, লাঠি নিয়ে সামনে থেকে হামলার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তাতে তাঁদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক। তাঁর কথায়, কিছু সংখ্যক পড়ুয়া ঘটনাস্থলে থাকলেও সামনে থেকে যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তাঁরা মোটেই ছাত্র নন। শনিবার ঠিক এমন কথাই শোনা গেছিল দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) মুখে। তাঁর মন্তব্যে রাজাকার বা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কথা উঠতেই সমালোচনা ঝড় উঠে। জামাত-ই-ইসলামি পার্টির সদস্যরা সরকার ফেলে দেওয়ার কথাও বলেন। কিন্তু মহিলা সাংবাদিকের বক্তব্যের পর সংস্কার আন্দোলনের নামে দেশে অস্থির পরিস্থিতি তৈরির যে চক্রান্তের কথা উল্লেখ করে রাজাকার বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী, বিরোধীদের দিকে আঙুল তুলেছিল বাংলাদেশ সরকার, সেই কথাই কি মান্যতা পেল না? প্রশ্ন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে।


spot_img

Related articles

আইন রক্ষায় নিহত বাবা, তাঁরই ছেলে প্রতারণায় জেলে!

দু’দশক আগে এক বর্ষবরণের রাতে তিলোত্তমার বিবেক জাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এক অপরিচিতা তরুণীর সম্মান বাঁচাতে মদ্যপ সহকর্মীদের সামনে...

IND vs NZ: নতুন বছরে বিরাটের ব্যাটিং বিক্রম, জয়ের মধ্যেও থাকল উদ্বেগের ছায়া

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে ৪ উইকেটে জিতল ভারত। ২০২৫ সালেযেখানে শেষ করেছিলেন ২০২৬ সাল সেখান থেকেই শুরু...

সোমে মিলনমেলায় ডিজিটাল যোদ্ধাদের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক

বাংলা বহিরাগত জমিদারদের হাতে অপমানিত, লাঞ্ছিত। সেই বাংলাবিরোধীদের মিথ্যা ও অপপ্রচারের মোকাবিলায় তৃণমূল ময়দানে নামিয়েছে ডিজিটাল যোদ্ধাদের। ডিজিটাল...

অনুপ্রবেশকারী খুঁজবে AI! নির্বাচনে নতুন গ্যাঁড়াকল শিণ্ডে-ফড়নবিশ জোটের

ভোটের আগে ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে মানুষের উপর নজরদারি আর হয়রানির রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নতুন অ্যাপ ব্যবহার...