ওড়িশায় বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ বাড়তেই প্রতিবেশী রাজ্য থেকে মুরগিজাত জিনিস আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে রাজ্যে। আন্তঃরাজ্য সীমান্ত সিল করেও শুরু হয়েছে নজরদারি। রাজ্যে যাতে এই পরিস্থিতিতে কোনওভাবে এই রোগ প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য প্রশাসনিক সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি রাজ্য সরকারের। সেই উদ্দেশে এবার রাজ্যের মন্ত্রী থেকে বিডিও পর্যন্ত সরকারের তৈরি নিয়ম যাতে কোনও ভাবে না ভাঙা হয় তা নিয়ে সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


বার্ড ফ্লু সচেতনতায় এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা বলতে গিয়ে সোমবারের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “অলরেডি বর্ডার সিল করতে বলেছি, বিশেষ করে মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া। এই সীমানা গুলি দিয়ে অনেকে যারা শুধু ব্যবসা করতে চান তাঁরা ছাড়া পচা জিনিস নিয়ে এসে মানুষের রোগ বাড়াবেন না। বাংলার সমস্যা নেই, কিন্তু সমস্যা অন্য রাজ্যে হলে দেখতে হবে যাতে সেই রোগ আমার রাজ্যে এসে না পৌঁছায়।” তবে শুধুমাত্র সড়ক পথ নয়, রেলপথেও যাতে কোনওভাবে রোগ সংক্রমণ না হয়, তার জন্য রেলের সঙ্গে বৈঠকের নির্দেশ দেন তিনি। মুখ্য়সচিবকে নির্দেশ দেন স্টার্ন রেলওয়ে, সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে এমনকি নর্দার্ন রেলওয়ের সঙ্গেও বৈঠক করতে। ওড়িশায় এই রোগের প্রকোপ সেরে গেলে ফের সেখান থেকে মুরগিজাত দ্রব্য আনার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

বার্ড-ফ্লুর পাশাপাশি মাঙ্কি পক্স নিয়েও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরকে সচেতন করেন মুখ্যমন্ত্রী। বাইরের রাজ্য এমনকি বাইরের মহাদেশ থেকে আসা রোগ প্রতিরোধ করতে চারজন নোডাল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দেন তিনি। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গি, বার্ড-ফ্লু, মাঙ্কি পক্স – চার রোগের জন্য় আলাদা নোডাল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমকে দেন তিনি।


পাশাপাশি নিয়ম মানার বিষয়েও কড়া বার্তা দেন তিনি। এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মন্ত্রী থেকে বিডিও প্রত্যেকে লক্ষ্য রাখবেন যতক্ষণ বার্ড ফ্লু ক্লিয়ার না হচ্ছে, যতক্ষণ পর্যন্ত এআরডি বিভাগ সিগনাল না দিচ্ছে, ততক্ষণ সরকারের নির্দেশ মানবেন। এখানে যেন সরকারের নির্দেশ না মানার কোনও প্রবণতা কারো না থাকে। যদি থাকে তাহলে সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।”















