বাংলায় শিক্ষক নিয়োগ বেনিয়ম নিয়ে একের পরে এক মামলা করে শেষ পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মীর জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার কারিগর সিপিআইএম-বিজেপি (CPIM-BJP)। যে রাম-বাম একজোট হয়ে বাংলায় চাকরি খাওয়ার রাজনীতিতে মেতেছে, তারাই ত্রিপুরার (Tripura) শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবন নিয়ে খেলেছিলেন অন্য খেলা। সবটাই যে বাংলার রাজনীতিতে ফায়দা তুলতে তা স্পষ্ট করে দিল তৃণমূল। রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ ত্রিপুরার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির (teachers’ recruitment scam) কথা মনে করিয়ে ফাঁস করে দিলেন রাম-বামের দ্বিচারিতা।

সিপিআইএম আমলে ছোট্ট রাজ্য ত্রিপুরায় দুর্নীতির শিকার হয়ে চাকরিহারা হতে হয়েছিল ১০ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকাকে। সেই কথা স্মরণ করিয়ে কুণাল জানান, ত্রিপুরা আমাদের থেকে খুব ছোট রাজ্য। আমাদের দুটি জেলার সমান রাজ্য। খুব সুন্দর রাজ্য। সেখানে সিপিআইএম (CPIM) জমানায় এই অনিয়ম (scam), এই ধরনের ভুলের জন্য ১০,৩২৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি চলে গিয়েছিল। গোটা প্যানেল বাতিল হয়েছিল সিপিআইএম জমানায়। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) এইভাবে বাতিল করেছে।
সিপিআইএম-কে সেই সময়ে ত্রিপুরা (Tripura) থেকে সরাতে এই শিক্ষকদের রাজনীতির ঘুঁটি হিসাবে ব্যবহার করেছিল বিজেপি (BJP)। সেই তথ্য তুলে ধরে কুণাল স্পষ্ট করে দেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের বিকল্প ব্যবস্থা করে দেবে বলেছিল। কিচ্ছু দেয়নি।

বাম শাসিত ত্রিপুরায় চাকরিহারাদের চোখের জল থেকেও শিক্ষা নেয়নি এই রাজ্যের সিপিআইএম। উপরন্তু বাংলায় রাজনীতির গদি ফিরিয়ে নিতে সেই শিক্ষকদেরই আবার ব্যবহার করেছে বঙ্গ সিপিআইএম। সেই দ্বিচারিতার কথা বলতে গিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, যে সিপিআইএমের (CPIM) জমানায় ত্রিপুরা (Tripura) রাজ্যে ১০,৩২৩ জনের প্যানেল অনিয়মের (scam) জন্য বাতিল হয়েছিল তারা এখানে সাধু সেজে বড় বড় কথা বলছে কেন।

বাংলার বামনেতাদের নাম উল্লেখ করে তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিকাশ ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞাসা করুন, যেদিন সিপিআইএম শাসিত ত্রিপুরায় গোটা প্যানেল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) খারিজ করেছিল, সেদিন এই সিপিআইএমের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে বলেছিলেন, কয়েকজনের ভুলের জন্য জেনুইনদের (genuine) চাকরি যেতে পারে না। আজ তারা দ্বিচারিতা করছেন। আজ তারা সকলের চাকরি খাওয়ার রাজনীতি করছেন।

–

–

–
–
–
–
