Saturday, May 23, 2026

বাঙালির মাছ বাজার বন্ধের ‘হুলিয়া’! রাজধানীতে বিজেপির দাবি উড়িয়ে প্রমাণ করে দিল তৃণমূল

Date:

Share post:

ডবল ইঞ্জিন বিজেপি রাজ্যগুলির পরে খোদ রাজধানী দিল্লিতেও বাঙালি খেঁদাও অভিযান চালিয়েছে বিজেপির গুণ্ডা বাহিনী। অত্যাচারিত বাঙালি পরিবার কোনওমতে পালিয়ে এসে বিজেপির বাহিনী ও পুলিশের অত্যাচারের বর্ণনা করতেই বিজেপি মিডিয়া বাহিনীকে লাগিয়েছিল এটা বোঝাতে যে মাছ বাজারে (fish market) কোনও সমস্যা নেই। বাস্তবে নয়ডার (Noida) মাছ বাজারে কীভাবে মাছের বিক্রিতে লাগাম লাগিয়েছে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার, এবার সেই ছবি তুলে ধরল বাংলার শাসকদল। মাছ বিক্রি তো দূরের কথা, সেখানে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক (migrant labour) পরিবারগুলির বসবাস অসম্ভব করে তুলেছে বিজেপির পরিকল্পিত ঘৃণার রাজনীতি। তবে কোনওভাবেই যে বাংলার বাইরে বাংলাভাষী মানুষদের হাত ছাড়ছে না শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস, তা নয়ডার পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করে বুঝিয়ে দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

দিল্লির ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজধানীর অন্যতম বাঙালির মাছের বাজার চিত্তরঞ্জন পার্কের বাজারে মাছ বিক্রি নিয়ে ফতোয়া জারি করেছিল গেরুয়া বাহিনী। এবার কোপ পড়ল রাজধানী লাগোয়া নয়ডার শাহদরা (Shahdara) বাজারে। স্থানীয় বাঙালি মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, গ্রেটার নয়ডার শাহদরা গ্রামের বাজারে মাছের বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের উপর ফতোয়া জারি করা হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন পরিযায়ী শ্রমিকদের বসতি এলাকায় শ্রমিকদের খোঁজ নেওয়ার কাজ শুরু করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম (Samirul Islam) নয়ডার পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে গেলে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার পরিযায়ী শ্রমিকরা জানান চরম দুর্ভোগের কথা। তাঁরা অভিযোগ করেন, বাংলা (Bengali language) কথা বলার জন্য হিন্দিু-মুসলিম নির্বিশেষে তাঁদের একঘরে করে দেওয়া হয়েছে। ২০-২৫ বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তাদের বাংলাদেশি (Bangladeshi) বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তাঁদের মাছের ব্যবসা।

আরও পড়ুন: রাখী বন্ধন উৎসবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আহ্বান, সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছাবার্তা অভিষেকের

সাংসদ এলাকায় পৌঁছতেই স্থানীয়রা অত্যাচারের কাহিনী তুলে ধরেন। এক মহিলা চোখের জলের সঙ্গে বর্ণনা করেন কীভাবে শুধুমাত্র বাংলা বলার জন্য মানুষের থেকে অধম, কুকুরের মতো আচরণ করা হচ্ছে তাঁদের সঙ্গে। ছাড় পাচ্ছেন না তপশিলি জাতির (scheduled caste) মানুষরাও। সেখানেই তৃণমূল সাংসদ সামিরুলের (Samirul Islam) প্রশ্ন, ছোটবেলা থেকে যে আপ রুচি খানা কথাটি শিখে এসেছি, তাকেই ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। শুধুমাত্র বাংলা (Bengali) বলার জন্য বাঙালি তাঁর নিত্য প্রয়োজনীয় ভাত-মাছ থেকেও এখানে বঞ্চিত। প্রশ্ন তোলেন, রবীন্দ্রনাথ, নেতাজির ভাষা বলার জন্য কেন এত রাগ বিজেপির নেতাদের?

Related articles

ISL: ইমামি প্রসঙ্গে বড় বয়ান, চ্যাম্পিয়ন হয়েই মোহনবাগানকে মোক্ষম কটাক্ষ নীতুর

ইস্টবেঙ্গল(East Bengal)  ইমামির (Emami) ভাঙন নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছে। আইএসএল(ISL) জয়ের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই  ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের...

রেকর্ড গরমে পুড়ছে তেলঙ্গানা! দাবদাহ-লু-এর জোড়া ফলায় মৃত অন্তত ১৬

চলতি মরশুমে দাবদাহ এবং লু-এর ফলে তেলঙ্গানায় মৃত কমপক্ষে ১৬। রাজস্ব মন্ত্রী পোঙ্গুলেটি শ্রীনিবাস রেড্ডি বিষয়টি নিশ্চিত করে...

হালিশহর-ভাটপাড়ার পর এবার কাঁথি! ভয় দেখিয়ে পরপর পুরসভা ভাঙছে বিজেপি

মুখে এক কাজে আর এক। ক্যামেরার সামনে বিজেপি নেতৃত্ব বলছেন, কোনও পুরসভা-পঞ্চায়েত-পঞ্চায়েত সমিতি-জেলা পরিষদ আমরা দখল করব না।...

শিক্ষাক্ষেত্রেও এবার বেসরকারীকরণের হাওয়া! রাজ্যে ‘বিদ্যাঞ্জলি’ প্রকল্প চালুর তোড়জোড়

বিজেপির বাংলায় শিক্ষাক্ষেত্রেও এবার বেসরকারীকরণের থাবা! কেন্দ্রের নতুন প্রকল্প চালুর নামে শিক্ষাঙ্গনে বেসরকারি পুঁজি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সযত্নে...