মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাত ধরে যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত জেফরে এপস্টেইনের ফাইল প্রকাশ্যে আসতেই গোটা বিশ্ব জুড়ে তোলপাড়। তালিকায় সব থেকে বেশি যে দেশের মানুষের নাম উঠে এসেছে সেখানে মার্কিন বিখ্যাত ব্যক্তিদের নাম রয়েছে জেনেও তা প্রকাশ্যে এনেছে ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসন। তবে এবার গোটা তদন্তে আর ফাইল (Epstein files) প্রকাশ প্রয়োজনীয় নেই বলে গোটানোর পালা। সেই লক্ষ্যে মুছে ফেলার নির্দেশ একাধিক রাজনীতিক থেকে শিল্পপতিদের নাম। যদিও সেই তালিকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) নাম থাকার দাবি করা হলেও সেই নাম মোছা নিয়ে কোনও নির্দেশ জারি হয়নি আমেরিকায়।

জেফরে এপস্টেইনের (Jeffrey Epstein) মৃত্যুর তদন্তে তার কীর্তি ও কার্যকলাপ সংক্রান্ত সব ফাইল প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্তে শিলমোহর দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। মৃত্যুর তদন্তে স্বচ্ছতা প্রকাশ করার জন্যই শুক্রবার সেই সব ফাইল প্রকাশ্যে আসে।

এই ফাইলের মধ্যে একটা বড় অংশ ছিল বিপুল পরিমাণ ই-মেল। সেই সঙ্গে প্রকাশ্যে আসে একাধিক বিখ্যাত ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত যৌন কেলেঙ্কারির (sex racket) ভিডিও। প্রায় ২০০০ নগ্ন ভিডিও (nude video) ও ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি প্রকাশ্যে আনা হয়।

তবে এই যোগাযোগের তালিকায় নাম উঠে আসে – প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, ব্রিটিশ রাজবংশদ্ভূত অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন থেকে বিল গেটস (Bill Gates) ও এলন মাস্কের (Elon Musk) নামও। সেই সঙ্গে জায়গা পায় রাষ্ট্রপতি পত্নী মেলানিয়া ট্রাম্পের (Melania Trump) নামও। আর এই তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তালিকা থেকে এই নামগুলি বাদ দেওয়া নির্দেশ দেয়। ও এরপরই তড়িঘড়ি সব ফাইল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নাবালিকা যৌন কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার ও পরে মৃত এপস্টেইনের মৃত্যুর তদন্তে নিজেদের হাত সাফ করতে ব্যস্ত আমেরিকা। নিজের নাম প্রকাশ্যে আসার পর যদিও এলন মাস্ক দাবি করেছেন, তাঁকে টোপ দিয়েছিলেন এপস্টেইন। যা তিনি অবশ্যই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সেই সময় যে ই-মেল চালাচালি হয়েছিল, তার জন্যই তাঁর নাম প্রকাশ্যে এসেছে। তবে বাকি যাদের নাম সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন, তাঁরা সপক্ষে কোনও বক্তব্য নিয়ে প্রকাশ্যে আসেননি।

আরও পড়ুন : বিশ্বের নজরে ভারতের বাজেট: নতুন করে ১৭ লক্ষ কোটি ধারের ঘোষণায় আলোচনা

এই তালিকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামের উল্লেখ রয়েছে বলেও একাধিক সূত্রে দাবি করা হয়। একটি ই-মেলে নরেন্দ্র মোদি হিসাবে যে নামের উল্লেখ রয়েছে, সেখানে তাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে এমন যোগাযোগের কোনওরকম সম্ভাবনা খারিজ করা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন যে নামগুলি তালিকা থেকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে সেখানে নরেন্দ্র মোদির নাম নেই। তাতে এমনটা প্রমাণিত হয় না, এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের তালিকায় তাঁর নাম নেই। আবার এমনটাও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তা সরাতে চায় না আমেরিকা।

–
–
–
