বিরোধীরা এমন কোনও পদক্ষেপ নেবে না যাতে বিজেপির সঙ্গে তাঁদের পার্থক্য স্পষ্ট বোঝা যায়। লোকসভার স্পিকার যে অধিবেশন চালাতে চাইছেন না তা স্পষ্ট। এই বিষয়ে কংগ্রেসের স্পিকারের (Loksabha Speaker) বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েও সেই অনাস্থার জন্য আনা পন্থার পার্থক্য স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisek Banerjee)। অনাস্থা (no confidence motion) আনার আগে স্পিকারকে চিঠির মাধ্যমে সুযোগ দেওয়ার কথা জানান তিনি।

সোমবারের পরে মঙ্গলবারও লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি (adjourned) করে দেন স্পিকার ওম বিড়লা। সোমবার দুদফায় মুলতুবি হওয়ার পরে মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতুবি হল অধিবেশন। মঙ্গলবার সেই অধিবেশন বেলা ১১টার শুরু হওয়ার পরে ফের দু দফায় অধিবেশন মুলতুবি হয়।

সেখানেই স্পিকারের অধিবেশন চালানোর সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক। তিনি জানান, তৃণমূল চায় অধিবেশন চলুক। সংসদ চলুক। সরকার চায় না সংসদ (Parliament session) চলুক। আজ দুবার অধিবেশন মুলতুবি হয়েছে। স্পিকার একবারও হাউসে আসেননি। চেয়ারে বসেননি। কাল ২টোর সময় মুলতুবি করেছেন আজ সকাল ১১টা পর্যন্ত। আপনার যদি মানসিকতা থাকে হাউস (Parliament house) চালানোর তাহলে আপনি ১৮-২০ ঘণ্টা মুলতুবি করবেন কেন? আপনারও দায় রয়েছে। সংসদ চালানোর দায়িত্ব সরকারের। আমরা চাই বাজেট নিয়ে আলোচনা হোক। সরকার সংসদ চালাতে চায় না।

তাহলে কোন পথে তৃণমূল কংগ্রেস? অভিষেক স্পষ্ট জানান, তৃণমূলের প্রত্যেক সাংসদ, বিশেষ করে লোকসভার ২৮ জন সাংসদ সবাই স্বাক্ষর করবেন। আমাদের বক্তব্য অনাস্থা প্রস্তাব আনার আগে একটি চিঠি যৌথভাবে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল – যাঁরা ইন্ডিয়া জোটের (I.N.D.I.A.) শরিক – তাঁরা সবাই স্বাক্ষর করে লোকসভার অধ্যক্ষর কাছে জমা করুক। যে চারটি দাবিতে বিতর্ক চলছে – যেমন আটজন কংগ্রেস সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের সাসপেনশন তুলে নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হোক অধ্যক্ষকে। দুদিন-তিনদিনের সময় দেওয়া যেতে পারে। আজ মঙ্গলবার একটি চিঠি জমা হল। বৃহস্পতিবারের মধ্যে যদি কোনও সুরাহা না হয় তাহলে অনাস্থা আনা হবে।

এক্ষেত্রে যে অবস্থান নিলে বিজেপির সঙ্গে বিরোধী জোটের পার্থক্য স্পষ্ট হবে ও বিরোধীদের দাবিও উত্থাপিত হতে পারবে তা জানিয়ে অভিষেক বলেন, তিনদিন সময় দিয়ে যদি কংগ্রেস (Congress) অনাস্থা প্রস্তাব (no confidence motion) আনে তবে তৃণমূল (TMC) স্বাক্ষর করবে। আজ যদি আনে তাহলে তৃণমূল চিঠি দেবে। তারপর তিনদিনের মধ্যে দাবি নিয়ে কোনও উত্তর স্পিকার না দিলে অনাস্থায় স্বাক্ষর করবে তৃণমূল।

তার কারণ ব্যাখ্যা করে অভিষেক জানান, আপনি ধরুন একটি ভুল করেছেন, তাহলে আপানাকে তো একটা সুযোগ দিতে হবে। তাহলে নরেন্দ্র মোদি আর আমাদের মধ্যে পার্থক্য কী? বিজেপি আর আমাদের মধ্যে পার্থক্য কী? উপরাষ্ট্রপতিকে কথা শুনছে না বলে তাঁকে এক ঝটকায় সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এদের মতো নই। আমরা সুযোগ দিই। সুযোগের যদি সদুত্তর না পাই তখন আমরা নিশ্চয়ই করব। আমরা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রথমেই ইমপিচমেন্ট মোশন (impeachment motion) আনিনি। কংগ্রেস বলেছিল আনার কথা। আমরা প্রত্যেকটি পথ খোলা রেখেছি। গত তিনমাসে ১০০ থেকে ১৫০ চিঠি দিয়েছি। কোনও সদুত্তর না পেয়ে শেষ পথে ইমপিচমেন্ট।

আরও পড়ুন : বারবার বলতে বাধা বিরোধী দলনেতাকে: স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থার প্রস্তুতি

বিজেপি যে বাস্তবেই বিরোধীদের কণ্ঠরোধের পথে চলেছে সেই তথ্যই স্পষ্ট করে অভিষেক দাবি করেন, ইন্ডিয়ার শরিক যারা আছে তাঁরা আমাদের সঙ্গে একমত। কাল এটা স্পষ্ট করে স্পিকারকেও বলেছি। যদিও আজ ১২.৩০ টা বৈঠকে আমাকে ডেকেছে। কিন্তু আমার মনে হয় শাসকদল বিজেপি সংসদ চালাতে চায় না। বিজেপি আলোচনা চায় না। বিজেপি যদি সংসদ চালাতে চায় তবে স্পিকার এসে চেয়ারে বসুন।

–

–

