আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসের মঞ্চ থেকে দিল্লি এবং বাংলার বিজেপি নেতাদের একযোগে বিঁধলেন সাংসদ জুন মালিয়া। তাঁর অভিযোগ, বাংলার উন্নয়ন চোখে পড়ে না বলেই বিরোধীরা এখন কুৎসা করাকে ফ্যাশন বানিয়ে ফেলেছেন। তাঁর কটাক্ষ, বাংলার নামে আর মুখ্যমন্ত্রীর নামে যা খুশি তাই বলায় দিল্লির জমিদার বাবুরা পিএইচডি করেছেন।

বিজেপিকে আক্রমণ করে জুন বলেন, যারা সারাক্ষণ বাংলার সমালোচনা করেন, তারা আসলে আয়নায় নিজেদের মুখ দেখেন না। তাঁর প্রশ্ন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির তুলনায় বাংলা অনেক এগিয়ে থাকলেও কেন বারবার বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে? তিনি দাবি করেন, বাইরে থেকে নেতারা যখন মেদিনীপুর বা খড়্গপুরে আসেন, এখানকার ঝকঝকে রাস্তা দেখে তারা অবাক হয়ে যান। সবুজ সাথী থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার— উন্নয়নের এমন জোয়ার দেখে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলার মতো কোনো খামতি খুঁজে পায় না বিরোধীরা। তাই তারা বিভাজনের রাজনীতি আর রথযাত্রা নিয়ে মেতে ওঠে।

এদিন প্রধানমন্ত্রীকেও সরাসরি আক্রমণ করেন জুন মালিয়া। প্রধানমন্ত্রীকে ডুমুরের ফুল বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বছরে ৩৬৫ দিন মানুষের জন্য নিরলস কাজ করেন, তখন প্রধানমন্ত্রীকে কেবল হাওয়াই জাহাজে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। বাংলার বকেয়া টাকা আটকে রাখা নিয়েও সরব হন তিনি। সাংসদ বলেন, বাংলার টাকা আটকে রেখে এখন ভোট পাখি হয়ে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। অথচ সংসদ ভবন বা বাজেটে বাংলার মানুষের হকের টাকা নিয়ে এখানকার বিজেপি সাংসদদের মুখে রা কাড়তে দেখা যায় না।

দিল্লির নেত্রী রেখা গুপ্তকেও কড়া ভাষায় জবাব দেন মেদিনীপুরের সাংসদ। দিল্লিতে মহিলাদের নিরাপত্তা এবং বর্ষায় জলমগ্ন রাজপথের প্রসঙ্গ টেনে জুনের খোঁচা, রেখা গুপ্তজি আগে দিল্লি সামলান। বর্ষাকালে দিল্লি তো ভেনিস হয়ে যায়। যেখানে ভিআইপিরা থাকেন সেখানেই যদি এই অবস্থা হয়, তবে সাধারণ মানুষের কী দশা তা সহজেই অনুমেয়। সন্ধ্যার পর দিল্লিতে মহিলারা বেরোতে ভয় পান, আর এখানে মহিলারা সুরক্ষিত।

বাংলার মনীষীদের নাম ভুল উচ্চারণ করা নিয়েও বিজেপি নেতাদের পড়াশোনা করে আসার পরামর্শ দেন জুন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বা রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের নাম বিকৃত করা নিয়ে তিনি বলেন, বাঙালিকে না বুঝে, বাংলার সংস্কৃতি না জেনে এখানে ভোট চাইতে আসা বৃথা। ১০০ দিনের কাজ এবং আবাসের টাকা আটকে রাখার প্রসঙ্গ তুলে তিনি মানুষকে আশ্বস্ত করেন যে, দিদি যেভাবে কোভিড বা ঝড়ের সময় মানুষের পাশে ছিলেন, আগামী দিনেও সেই মানুষের সেবার রাজনীতিই বাংলার পথ দেখাবে।

আরও পড়ুন- T20 WC: মোতেরায় শাপমুক্তি, বিশ্বকাপ জিতে সবরমতীর তীরে ইতিহাস টিম ইন্ডিয়ার

_

_

_

_
_

