নরেন্দ্র মোদি সরকারে জমানায় মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ যেন একটা কাল্পনিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে জ্বালানি সংকটের কোনও প্রভাব ভারতে পড়বে না বলেও পরোক্ষভাবে জ্বালানি তেল (fuel), প্রাকৃতিক গ্যাসের (natural gas) দাম যেভাবে একের পর এক বাড়িয়ে চলেছে মোদি সরকার তাতে পরিবহন ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি (price hike) যে হবে তা নিশ্চিত। যার ফল টের পাওয়া যাবে সব ধরনের জিনিসের দাম বৃদ্ধি থেকে উৎপাদন ক্ষেত্রের দাম বাড়াতেও। শুক্রবার ফের এক দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালো কেন্দ্র সরকার। যার মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস, প্রিমিয়াম পেট্রোল (premium petrol) এবং শিল্পে ব্যবহার্য ডিজেল (industrial diesel) রয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকেই প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধির টের পেয়েছে শহরের সিএনজি (CNG) গাড়ির চালকেরা। একদিকে যখন সিএনজির সরবরাহে ঘাটতির কারণে একটা বড় অংশের পরিবহন শিল্প ক্ষতির মুখে। তখনই সিএনজির দাম বাড়িয়ে গাড়ি চালকদের, বিশেষত দিন আনা দিন খাওয়া অটোচালকদের বিপদে ফেলেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।

এরপর দেশের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের (Ministry of Petroleum and Natural Gas) তরফে সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয় প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম বাড়ানোর কথা। দেশের তিন জ্বালানি তেল বিপণন সংস্থা শুক্রবার থেকেই প্রিমিয়াম পেট্রোলের (premium petrol) দাম ২.০৯ থেকে ২.৩৫ টাকা পর্যন্ত বাড়াচ্ছে। এইচপি ‘পাওয়ার’, ভারত পেট্রোলিয়ামের ‘স্পিড’ ও ইন্ডিয়ান অয়েলের ‘এক্সপি ৯৫’ – এই তিন ধরনের তেলের দাম বাড়ল। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দাবি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের পেট্রোলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না।

আরও পড়ুন : ডলারের নিরিখে শুক্রবার টাকার দামের সর্বকালীন রেকর্ড পতন!

পরিবহনের ক্ষেত্রে সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে টান না দিলেও এবার যেভাবে শিল্পে ব্যবহার্য ডিজেলের (industrial diesel) দাম বাড়িয়ে ফেলল মোদি সরকার, তার প্রভাব অবশ্যই সাধারণ উৎপাদনশিল্পের উপর পড়তে চলেছে। এক লাফে শিল্পক্ষেত্রে ডিজেলের দাম ২২ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই ডিজেলচালিত যে কোনও শিল্পের উৎপাদনের খরচ বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে সেই উৎপাদিত দ্রব্যের উপর সরাসরি পড়বে।

–

–

–

–

–
