প্রবল বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার লোকসভায় পাশ হয়ে গেল রূপান্তরকামী ব্যক্তি (অধিকার সুরক্ষা) সংশোধনী বিল, ২০২৬। সংশোধিত এই বিল অনুযায়ী, এখন থেকে কোনও ব্যক্তি চাইলেই স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে নিজেকে রূপান্তরকামী হিসেবে ঘোষণা করতে পারবেন না। এই তকমা পেতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলক ভাবে জমা দিতে হবে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট। বিলের এই সংস্থান ঘিরেই তুঙ্গে উঠেছে বিতর্ক। বিরোধীদের দাবি, এই পদক্ষেপ মানুষের মৌলিক অধিকার ও আত্মপরিচয়ের ওপর সরাসরি আঘাত। যদিও যাবতীয় আপত্তি সরিয়ে এদিন ধ্বনি ভোটে বিলটি পাশ করিয়ে নেয় সরকার পক্ষ।

বিলের বয়ান সামনে আসতেই বিভিন্ন রূপান্তরকামী সংগঠন ও বিরোধী দলগুলি প্রশ্ন তুলেছে, কে বা কারা ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় একজন ব্যক্তিকে ‘রূপান্তরকামী’ শংসাপত্র দেবেন? তাঁদের অভিযোগ, এই সংশোধনী রূপান্তরকামীদের সুরক্ষা দেওয়ার বদলে তাঁদের অধিকার আরও খর্ব করবে। লিঙ্গ স্বীকৃতির বিষয়টি সহজ করার পরিবর্তে এটি জটিল আইনি জালে আটকে দেবে সাধারণ মানুষকে। তবে সরকারের যুক্তি অন্য। এদিন বিতর্কের জবাবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রী বীরেন্দ্র কুমার বলেন, জৈবিক কারণে বৈষম্যের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়াই এই বিলের আসল লক্ষ্য।

এদিন লোকসভায় এই বিলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সাংসদ জুন মালিয়া বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে এটি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠানোর আর্জি জানান। মোদি সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই বিল মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, আত্মসম্মান এবং শারীরিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে। জুনের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট রূপান্তরকামীদের যে স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে, এই বিলের মাধ্যমে তা হরণ করা হচ্ছে। বিরোধীদের হইহট্টগোলের মধ্যেই বিলটি পাশ হলেও এটি এখনই আইনে পরিণত হচ্ছে না। লোকসভার পর এবার রাজ্যসভায় বিলটি পেশ করা হবে। সেখানে পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর মিললে তবেই কার্যকর হবে এই নতুন নিয়ম।

আরও পড়ুন- বিজেপিতে লিয়েন্ডার পেজ! টেনিস তারকার হোটেল-সাক্ষাতে জল্পনা

_

_

_

_

_

_
_
