আমলা থেকে পুলিশদের মধ্যরাতে বদলির পর এবার টার্গেট চিকিৎসক মহল। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের সরাসরি ভোটের কাজে ব্যবহার করে এরাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা বেহাল করতে চাইছে বিজেপির (BJP) নির্দেশে কাজ করা নির্বাচন কমিশন (ECI)! বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট করেই জানিয়ে দেওয়া হল ভোট পরিচালনার কাজে যুক্ত করা হচ্ছে চিকিৎসকদেরও (Doctors on Election Duty)। ইতিমধ্যেই সরকারি হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসকের হাতে পৌঁছেছে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার চিঠি। ক্ষুব্ধ ডাক্তাররা। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এত পরিমাণে ডাক্তারদের যদি এভাবে তুলে নেওয়া হয় তাহলে রোগী পরিষেবা দেবে কে? অসন্তোষ বাড়ছে চিকিৎসকসহ সব মহলে।

রাতারাতি আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজের ২৪ ডাক্তারকে চিঠি পাঠিয়ে ভোটের ডিউটি করার নির্দেশের প্রতিবাদ জোরালো হতেই, নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরেছে জ্ঞানেশ কুমারের কমিশন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আরও এক নজিরবিহীন ঘোষণা। এবার আরামবাগের প্রফুল্ল চন্দ্র সেন হাসপাতালে একসঙ্গে ৪৯ জন চিকিৎসককে ভোটের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সহকারী অধ্যাপক-সহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসক মহলের অভিযোগ এত সংখ্যক ডাক্তারদের যদি এভাবে সরাসরি ভোটের কাজের জন্য হাসপাতাল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দেবে কে? ওপিডি থেকে শুরু করে জরুরি অপারেশনের মতো ক্ষেত্রগুলিতেও ডাক্তার সংকট তৈরি হবে। এর আগে কখনও এত পরিমানে ডাক্তারদের ভোটের কাজে এভাবে ব্যবহার করা হয়নি। সরাসরি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে বেহাল করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। আসলে নির্বাচন কমিশন যে বকলমে রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে, সেই ইঙ্গিত জোরালো হচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও বিশেষ নির্দেশিকা এসেছে কমিশনের তরফে। জানানো হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত বা চাকরি হারানো শিক্ষকদের কোনওভাবেই ভোটের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কোন ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীকেও দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। কমিশনের দাবি, এই দায়িত্ব বণ্টন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। যদিও পূর্ব মেদিনীপুর সহ বেশ কিছু জায়গায় যে কমিশন নিজেই এই নিয়ম মানেনি, তা স্পষ্ট।

–

–

–

–

–

–

–
