দীর্ঘ টালবাহানা এবং স্ক্রুটিনি পর্ব শেষে অবশেষে স্পষ্ট হল রাজ্যের নির্বাচনী লড়াইয়ের রেখচিত্র। মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২,৯২৬ জন প্রার্থী ভাগ্যপরীক্ষায় নামছেন। দুই দফার এই ভোটে শাসক-বিরোধী সব পক্ষের মধ্যেই লড়াই এখন সেয়ানে সেয়ানে।

কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১,৪৭৮ জন প্রার্থী। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনের জন্য লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন ১,৪৪৮ জন। সোমবার বিকেল ৩টে পর্যন্ত ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সুযোগ। সেই সময়সীমা পার হতেই জেলায় জেলায় রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।

নির্বাচন সদন সূত্রে খবর, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার প্রার্থীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ভোটারদের নাগালে পৌঁছে দিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কমিশনের মোবাইল অ্যাপে গেলেই যে কোনও সাধারণ নাগরিক সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির খতিয়ান এবং কোনও ফৌজদারি মামলা আছে কি না, তা সহজেই দেখে নিতে পারবেন। এ ছাড়াও বুথে ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে ইভিএম-এর ব্যালট পেপারে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকের পাশাপাশি তাঁদের রঙিন ছবিও ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রশাসন সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই মনোনয়ন সংক্রান্ত যাবতীয় গোপনীয় নথি সিলমোহর দেওয়া খামে সংরক্ষিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনওভাবেই নিয়মের ব্যত্যয় না ঘটে।

প্রার্থীতালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলির অন্দরে প্রস্তুতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। নির্দল ও বিক্ষুব্ধ প্রার্থীদের সরিয়ে দিয়ে এখন মূল লড়াইতে কে কাকে টেক্কা দেবে, তা নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ভাগ্য নির্ধারিত হতে চলেছে। ২ মে ফল ঘোষণা হতেই পরিষ্কার হয়ে যাবে বাংলার মসনদে শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি কে হাসবেন। আপাতত রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পাড়ায় পাড়ায় দেওয়াল লিখন আর প্রচারে ঝড় তুলতে ব্যস্ত সব শিবিরের প্রার্থীরাই।

আরও পড়ুন- তল্লাশি শুধু তৃণমূলের! Whatsapp সার্কুলার নিয়ে বিজেপির নির্লজ্জতার পর্দাফাঁস

_

_
_
_
_

