নির্বাচনের আগে শুধু দলবদল নয়, বদল হল পার্টি অফিসও। শুক্রবার ডোমকল পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল (TMC) ছেড়ে সিপিএমে (CPIM) যোগ দিলেন শতাধিক কর্মী। তৃণমূলের প্রাক্তন ওয়ার্ড সভাপতি এনামুল মালিথা ওরফে বাবুর নেতৃত্বে প্রায় ৪০০টি পরিবার তৃণমূল ছেড়ে লাল পতাকা হাতে তুলে নিল। ভোটের আগে সেটা রাজনৈতিক মহলে পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু এখানে শাসকদল ছেড়ে এমন দলে গেলেন কর্মী, যাঁদের একজন প্রতিনিধিও বিধানসভা নেই। আর তার সঙ্গেই ডোমকলে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের দখল নিল সিপিএম। তবে, দল ছেড়ে যাওয়ার তত্ত্ব মানতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের মতে, এনামুলকে অনেক আগেই পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। তাঁর বাড়িতে তৃণমূলের কার্যালয়টি ছিল।

শুক্রবার বিকেলে ডোমকলের সিপিএম (CPIM) প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে রানার উপস্থিতিতে এনামুলের নেতৃত্বে ৪০০টি পরিবার যোগদান করে। তৃণমূল কার্যালয়ে গিয়ে নিজেদের পতাকা লাগিয়ে দেন সিপিএমের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের সংগঠন কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে দাবি বাম নেতৃত্বের।

আর এই দলবদলে সব থেকে বেশি আত্মবিশ্বাসী সিপিএম প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁর মতে, “ভোটের মুখে তৃণমূলের এই ভাঙন আমাদের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। কার্যালয় হাতছাড়া হওয়া শাসকদলের কাছে এক বিরাট বড় ধাক্কা।“ মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে লাল পতাকা হাতে জোট বাঁধছেন বলে দাবি সিপিএম নেতাদের।

যদিও বিষয়টি গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসকদল। তৃণমূল সভাপতি কামরুজ্জামান শেখের অভিযোগ, দলবিরোধী কাজের জন্য অনেক আগেই এনামুলকে ওয়ার্ড সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। “দলে গুরুত্ব না পেয়ে উনি ঘরে বসে গিয়েছিলেন। যে পার্টি অফিসটি দখল করার কথা বলা হচ্ছে, সেটি আসলে এনামুলের নিজের বাড়িতে রয়েছে। তাঁকে পদ থেকে সরানোর পরে তৃণমূলের কেউ সেখানে বসতেন না“-জানান কামরুজ্জামান। এখন এই দলবদলে ইভিএম-এ প্রভাব ফেলে কি না সেটাই দেখার।

–

–

–

–
–
–
