Friday, April 24, 2026

সাঁজোয়া গাড়ি থেকে এজেন্সি! বাংলার ওপর এত রাগ কেন? কেন্দ্র-কমিশনকে তীব্র আক্রমণ মমতার

Date:

Share post:

‘বাংলার সাথে গদ্দারি করব না, জন্মেছি বাংলায়, মরবও বাংলায়’— এই স্লোগানকে সামনে রেখেই বৃহস্পতিবার ফের দিল্লিকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাদবপুর ও টালিগঞ্জ কেন্দ্রের দুই প্রার্থী দেবব্রত মজুমদার ও অরূপ বিশ্বাসের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী আগাগোড়া আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে ‘দুমুখো সাপ’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি রাজ্যের বকেয়া টাকা নিয়ে কড়া বার্তা দেন তিনি।

মমতা এদিন দাবি করেন, রাজ্য থেকে জিএসটির নামে কর তুলে নিয়ে গেলেও বিজেপি বাংলাকে ক্রমাগত বঞ্চিত করছে। তাঁর কথায়, দুই লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কাজ শুরু করলেও ছয় লক্ষ কোটি টাকা সুদ সমেত শোধ করতে হয়েছে। এর পরেও কেন্দ্র থেকে রাজ্যের পাওনা প্রায় দুই লক্ষ কোটি টাকা মেটানো হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, একদিকে দিল্লি থেকে বলা হচ্ছে বাংলা জ্বলছে, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে ৯০ লক্ষ মানুষের নাম কেটে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগও তোলেন তিনি।

এনআরসি ও অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে সরব হয়ে মমতা প্রশ্ন তোলেন, যদি ২০২৪ সালের ভোটার লিস্ট অনুযায়ী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তবে সেই তালিকার সাধারণ ভোটাররা কেন অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন? এই বৈষম্যের দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। ন্যাশনাল প্ল্যানিং কমিশন বা রেল বাজেট তুলে দেওয়া নিয়ে তোপ দাগার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ১০০ দিনের কাজ থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম মুছে দিতে চাইছে কেন্দ্র, যে কারণে রাজ্যে ওই প্রকল্পের নাম ‘মহাত্মাশ্রী’ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইডি, সিবিআই, এনআইএ এবং সিআরপিএফ-এর সাঁজোয়া গাড়ি দিয়ে বাংলাকে ঘেরাও করার চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের সময় প্রশাসনের ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ থাকা উচিত হলেও নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশেই চলছে বলে তিনি দাবি করেন। পুলওয়ামা বা পহেলগামের ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে মমতার প্রশ্ন, সেদিন এই সাজোয়া গাড়ি বা নিরাপত্তা কোথায় ছিল? কেবল বাংলার বেলাতেই কেন এত কড়াকড়ি?

রাজ্যের উন্নয়ন ও বেকারত্ব নিয়ে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, মোদি সরকারের আমলে দেশে বেকারত্ব ৪০ শতাংশ বাড়লেও বাংলায় তা ৪০ শতাংশ কমেছে। স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড, যুবসাথী এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পগুলি আজীবন চলবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। শেষে ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, গণনা কেন্দ্রে বিজেপি কারচুপি করার চেষ্টা করতে পারে, তাই কর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। বিজেপিকে ‘টাকার হুন্ডি’ নিয়ে বেরোনো দল হিসেবে আখ্যা দিয়ে মমতা বলেন, মানুষের পাকা বাড়ি রাজ্য সরকারই করে দেবে। পরিযায়ী শ্রমিকদের শপথ করানো বা মহিলাদের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে নিছক ভাঁওতাবাজি বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বার্তা দেন, ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।’

আরও পড়ুন- অতন্দ্র প্রহরীর মতো রাত জেগে আজ বিজেপির দফারফা করেছি: অভিষেক  

_

_

_

_

_

Related articles

প্রথম দফায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি রাজ্যে, রাত পর্যন্ত মোট গ্রেফতার ৪১ 

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি ও গোলমাল পাকানোর অভিযোগে মোট ৪১ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।...

কুণালের সমর্থনে মেগা রোড-শো দেবের, জনপ্লাবনে ভাসল বেলেঘাটা

বেলেঘাটায় ভোটের প্রচারে অন্য প্রার্থীদের আগেই কয়েক যোজন পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন কুণাল কুমার ঘোষ। প্রচারের শেষ লগ্নে এসে...

যত বেশি ভোট, তত বড় প্রত্যাবর্তন! প্রথম দফার শেষে আত্মবিশ্বাসের সুর তৃণমূল শিবিরে

যত বেশি হারে ভোট, তত জোরালো প্রত্যাবর্তন। বাংলার মানুষ বিজেপির কোমর ভেঙে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি জননেত্রী মমতা...

দুবরাজপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘আচরণে প্রশ্নের মুখে কমিশন

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই রণক্ষেত্র হয়ে উঠল বীরভূমের দুবরাজপুর। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের নামে সাধারণ মানুষের ওপর...