সমস্ত নথি থাকা সত্ত্বেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না ২৭ লক্ষ মানুষ। তবে এই সংখ্যাটা এই ২৭ লক্ষে আটকে নেই। অ্যাপালেট ট্রাইবুনালের হাতে চলে এসেছে কয়েকশো ভূতুড়ে নাম। অ্যাডজুডিকেশন তালিকা থেকে ভোটার তালিকায় (voter list) নাম উঠে যাওয়ার পরও একটা বড় সংখ্যায় ভোটার বিচারাধীন (adjudicated) হিসাবে উঠে এসেছেন। সেখানেই কমিশনের (ECI) দিকে অভিযোগের তির আরও একবার। সেক্ষেত্রে ট্রাইবুনালে (Appellate Tribunal) বিচারাধীনের সংখ্যাটা কিভাবে লাফ দিয়ে বেড়ে গেল সেটাই প্রশ্ন।

রাজ্যের প্রথম দফার নির্বাচনের আগে ট্রাইবুনালে বিচারাধীন থেকে যারা ভোটার তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ও বাদ পড়েছেন, তার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ট্রাইবুনাল বিচার করেছে মোট ৬৩১ জনের। তার মধ্যে ১৩৯ জনকে তালিকায় (voter list) জায়গা দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়েছেন ৮ জন। তাহলে বাকি ৪৯২ জন কোথা থেকে এলেন, সেখানেই উঠেছে প্রশ্ন।
একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, এই ৪৯২ জন আগের বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের (Judicial Officer) হাতে বিচারাধীন ছিলেন। কারণ তাঁরা অ্যাডজুডিকেশন (adjudication) তালিকায় ছিলেন। জেও-রা এদের বিচারের পরে ভোটার তালিকায় নাম তুলে দিয়েছিলেন। অথচ তারপরে আবার এই ৪৯২ জন ট্রাইবুনালের কাছে চলে এসেছে বিচারাধীন হিসাবে। আর সেখানেই স্পষ্ট হচ্ছে কমিশনের কারচুপি।

ট্রাইবুনাল ভোটাধিকার দিয়েছে আসলে ৬৩১ জনকে। তার মধ্যে ৪৯২ জন আগে থেকেই তালিকায় ছিলেন। তাহলে তাঁদের নতুন করে ট্রাইবুনালে বিচারাধীন হিসাবে পাঠালো কে, উঠেছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুন : তালিকায় অনুপ্রবেশকারী কারা: কমিশন খোঁজ দিতে না পারলেও ডেডলাইন বাঁধলেন মোদি!

যেখানে সময়ের অভাবে শেষ সম্ভাব্য মুহূর্ত পর্যন্ত ট্রাইবুনাল থেকে যোগ্য ভোটারদের ভোটার তালিকায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে দেশের সুপ্রিম কোর্ট, সেখানে ট্রাইবুনালের উপর ন্যায্য বিচারাধীনদের থেকে অতিরিক্ত বিচারাধীন চাপিয়ে দিয়ে সময় নষ্টের খেলাই বা কে খেলল, সেই প্রশ্নেরও কোনও উত্তর নেই। তবে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, কীভাবে সিস্টেমের ভিতরে কারচুপি করে বৈধ ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ রাখার প্রয়াস বাংলার এসআইআর প্রক্রিয়ায় করে চলেছে নির্বাচন কমিশন।

–

–
–
–
