ভোটগণনার ঠিক আগের রাতে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগনার সুভাষ নগর এলাকা। নোয়াপাড়া ও মধ্যমগ্রাম বিধানসভার সংযোগস্থলে সুভাষ নগর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধার হল রাশি রাশি ভিভিপ্যাট স্লিপ। গণতন্ত্রের প্রহরী হিসেবে পরিচিত নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতাকে এই ঘটনা এক লহমায় খাদের কিনারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যে নথির গোপনীয়তা রক্ষার দায়বদ্ধতা কমিশনের ওপর বর্তায়, তা রাস্তার ধারের ডাস্টবিনে অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া কয়েকশো ভিভিপ্যাট স্লিপের মধ্যে সিংহভাগই তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সংবলিত। রহস্যজনকভাবে উদ্ধার হওয়া সেই স্তূপের মধ্যে বিজেপি প্রার্থীর কোনও স্লিপ চোখে পড়েনি বললেই চলে। এই অদ্ভুত বৈষম্যই ষড়যন্ত্রের তত্ত্বকে আরও উসকে দিয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের স্লিপ বেছে বেছে আবর্জনায় ফেলে রাখা হল কেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কমিশনের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতা ও পক্ষপাতের অভিযোগে সোচ্চার হয়েছে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরই। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা কেবল প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং নির্বাচনী স্বচ্ছতাকে নর্দমায় ছুড়ে ফেলার এক সুপরিকল্পিত প্রয়াস।
কমিশন যেখানে বুথ থেকে স্ট্রংরুম পর্যন্ত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার দাবি করে, সেখানে কীভাবে এই সংবেদনশীল নথি প্রকাশ্য রাস্তায় এল, তার কোনও সদুত্তর এখনও আধিকারিকদের তরফে মেলেনি। বাম ও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, নির্দিষ্ট একটি শক্তিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই কি তবে এই কারসাজি? নির্বাচন প্রক্রিয়ার মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে এমন নক্কারজনক ঘটনা সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক আস্থার মূলে কুঠারাঘাত করেছে। কমিশনের এই চরম উদাসীনতাকে ঘিরে এখন উত্তাল গোটা রাজ্য। এখন দেখার, কমিশন দায়সারা সাফাই দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়, নাকি এর নেপথ্যে থাকা আসল কুশীলবদের খুঁজে বের করতে কোনও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
আরও পড়ুন- বিজেপি আসছে না, আমরাই জিতছি! ভবানীপুরের এজেন্টদের ‘লাস্ট মিনিট সাজেশন’ দলনেত্রীর
_
_

_
_

_

_

_

