চিত্রনাট্য সাজানো হয়েছিল তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) জোর জবরদস্তি হারাতে। নিজেই চোখের সামনে তা দেখলেন ফিরহাদ কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম (Priyadarshini Hakim)। সেই আঁখো দেখা হালই তিনি বর্ণনা করলেন নিজের ফেসবুক পেজে। সোমবার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে কী ঘটেছিল? কী এমন হল যে, নিশ্চিত জয়ের আসনে মমতাকে শেষমেশ হার মানতে হল? পুঙ্খানুপুঙ্খ তার বর্ণনা দিলেন প্রিয়দর্শিনী। গণনা কেন্দ্রে তিনি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাউন্টিং এজেন্ট। তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে আনলেন ভোটচুরির মারাত্মক অভিযোগ। হিংসার বাতাবরণ তৈরি করে, মারধর করে তৃণমূল এজেন্টের বাইরে বের করে দিয়ে একতরফাভাবে জিতে গেল বিজেপি (BJP)।

তখনও ভবানীপুরে সাত হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন সময় ভবানীপুরের গণনা কেন্দ্রে ঢুকলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রিয়দর্শিনী সোমবার রাতে ফেসবুক লাইভে অভিযোগ করেন, গণনাকেন্দ্র থেকে তৃণমূলের এজেন্টদের জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। তারপর লুঠ করা হয়েছে ভোট। তাঁর কথায়, সকাল থেকে সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। দিদিই জিতছিলেন। ১০-১২ রাউন্ড পর্যন্ত স্বচ্ছ গণনা হয়েছে। তারপরেই শুরু বিজেপির খেলা। হঠাৎই শুভেন্দু অধিকারী গণনাকেন্দ্রে ঢুকে বলেন, আপনারা সব বেরিয়ে যান। বিজেপি ২০০টি আসন পেয়ে গিয়েছে। আর কারও থাকার দরকার নেই। তৃণমূল কংগ্রেস এজেন্টরা তারপরও না বেরোলে মারধর ঘার ধাক্কা চ্যাংদোলা করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রিয়দর্শিনী বলেন, আমাকে এক বিজেপি কর্মী বলেন দিদি আপনাকে সম্মান করি। আপনি বেরিয়ে যান। আমি প্রতিবাদ জানাই। তারপরে আমাকে বসিয়ে বলা হয় ঠিক আছে থাকতে পারেন, তবে আমরা যা বলব সেই সংখ্যায় লিখতে হবে। আমি তখন বলি এ আবার কেমন কথা। প্রতিবাদ জানালে আমাকেও টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেওয়া হয়। কেড়ে নেওয়া হয় এন্ট্রি পাস। বিজেপির কর্মীরা ঢুকে তাণ্ডব চলাতে থাকে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল দর্শকের ভূমিকা। তাদের কিছু করার ছিল না। উপর থেকেই ইন্সট্রাকশন ছিল। তাঁরা শুধু আমাদের প্রটেক্ট করেছে, কিন্তু বিশৃঙ্খলা ও গণ্ডগোল থামানোর কোনও চেষ্টা করেনি।
প্রিয়দর্শিনীর অভিযোগ, চেয়ারে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে, আমার চুলের মুঠি ধরে টানাটানি করেছেন বিজেপির এজেন্টরা। তারপর কেন্দ্রীয় বাহিনী আমাকে সরিয়ে দিয়েছে। ঠিক সেই সময়ই গণ্ডগোলের খবর পেয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাখাওয়াতে হাজির হন। তারপরেও থামেননি বিজেপির এজেন্টরা। মমতার সামনেই তাঁরা তাণ্ডব চালাতে থাকেন। প্রিয়দর্শিনী বলেন, এরই মধ্যে হঠাৎ দেখি, ইভিএম মেশিনগুলো নীচে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা সবাই ছুটতে শুরু করি। দিদিও যাচ্ছিলেন। কিন্তু আমাদের আটকে দেওয়া হয়। ১৬ রাউন্ডের পর কোন গণনাই হয়নি। তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেস-সহ বিরোধী সমস্ত দলের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। কাউন্টিং রুমে শুধু শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি এজেন্ট, নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন। আর কেউ ছিলেন না। একতরফাভাবে শুভেন্দু অধিকারীকে বিজয়ী ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এটা জয় নয়, বিজেপির নির্লজ্জ পরাজয়।

–

–

–

–

–
–
–
