বিগত সরকারের আমলে রাজ্যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারী ও শিশুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দু’টি পৃথক কমিশন (Commission) গঠনের সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari) জানান, বিধানসভা নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) যে প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছিলেন, তারই অংশ হিসেবে জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্রুত ফল পাওয়ার লক্ষ্যে সরকার মাত্র ১০দিনের মধ্যেই কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ, ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত, আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেন এবং আইপিএস অফিসার জয়রামন।
প্রথম কমিশনটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে। এই কমিশন ১ জুন থেকে কাজ শুরু করবে। কমিশনের সদস্য-সচিব করা হয়েছে এডিজি পদমর্যাদার আইপিএস অফিসার কে জয়রামনকে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সামাজিক প্রকল্প, সরকারি অর্থে হওয়া নির্মাণকাজ, পরিষেবা প্রদান এবং সরকারি তহবিলের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ এই কমিশন তদন্ত করবে। কাটমানি, ঘুষ লেনদেন, সরকারি অর্থ তছরুপ এবং সাধারণ মানুষকে প্রতারণার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে।

সরকারি আধিকারিক, পঞ্চায়েত প্রতিনিধি, কাউন্সিলর, সমবায় সংস্থা, এনজিও-সহ বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করা হবে। তবে লোকায়ুক্তের আওতায় থাকা বিষয়গুলি এই কমিশনের বাইরে থাকবে। সাধারণ মানুষ সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। কমিশন কাজ শুরু করার ৩০ দিনের মধ্যেই সুপারিশ জমা দিতে শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করবে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি তহবিল থেকে যে অর্থ অপব্যবহার হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টাও করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

দ্বিতীয় কমিশনটি গঠন করা হয়েছে নারী ও শিশুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগের তদন্তে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়কে কমিশনের চেয়ারপার্সন করা হয়েছে। সদস্য-সচিব হয়েছেন আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেন। গত কয়েক বছরে বিশেষ করে তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলা ও শিশুকন্যাদের উপর হওয়া অত্যাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখবে এই কমিশন।

অভিযোগ গ্রহণের জন্য পৃথক পোর্টাল, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর এবং ই-মেল আইডি চালু করা হবে। পুরনো পেন্ডিং জিডি ও এফআইআর-ও সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, এসসি কমিশন, এসটি কমিশন, ওবিসি কমিশন, সংখ্যালঘু কমিশন এবং নারী ও শিশু অধিকার কমিশনের বকেয়া সুপারিশগুলিও খতিয়ে দেখবে কমিশন।

কমিশনের সদস্যরা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন থানা ও জেলায় গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করবেন, সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন এবং জনশুনানির আয়োজনও করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অধীনে থাকা নির্দিষ্ট কয়েকটি মামলা বাদে বাকি সমস্ত অভিযোগ কমিশনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে বন্ধ হয়ে যাওয়া মামলা পুনরায় খোলা, নতুন এফআইআর দায়ের, অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুপারিশও করা হবে।
আরও খবর: বাংলায় পাথরবাজি চলবে না, পুলিশের গায়ে হাত দিলে যতদূর যেতে হয় যাব: কড়া বার্তা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দুর

মুখ্যমন্ত্রী (Subhendu Adhikari) জানান, দুই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিই লিখিতভাবে দায়িত্ব নিতে সম্মতি দিয়েছেন। ১ জুন থেকে দুই কমিশনই আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে।

–
–
–
