দল-বিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার করা হল দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) এবং সন্দীপন সাহাকে (Sandipan Saha)। দলের তরফে সোমবার বিধানসভার অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়ে এই বহিষ্কারের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন এই দুই বিধায়ক। একেই বোধহয় বলে মিরজাফর! সিপিএম থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর যে-দল জায়গা দিল— আগলে রাখল— রাজ্যসভায় পাঠাল— শ্রমিক সংগঠনের মাথায় বসাল সেই দলের পিঠেই ছুরি মারলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে দোসর আর-এক নমুনা সন্দীপন সাহা। তৃণমূলের দুই ‘বিভীষণ’ বিধায়কের বেইমানির খবর ফাঁস করে দেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। দলের বিরুদ্ধে কীভাবে বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। যার ভিত্তিতেই সিআইডি তদন্ত শুরু হয়েছে— সবিস্তারে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পরেই তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ এই দুই গদ্দারকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে যায়। এ-বিষয়ে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যারা গদ্দারি করছে মানুষের ভোট নিয়ে আপনারা নামগুলো দেখতেই পাচ্ছেন। তবে ভয় পাবেন না। আগে সিপিএম করত নীতিহীন একজন। আমাদের ভুল হয়েছে তাকে টিকিট দেওয়া। পায়ে পড়েছিল এসে। সেদিন সিপিএম ঠিক করেছিল ওকে তাড়িয়ে দিয়ে। ওকে বাঁচানো ভুল হয়েছিল। অন্য লোককে কেটে তাকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল হাওড়ায়। আমরা ক্ষমা চাইছি আপনাদের কাছে। এরা রোজ গিয়ে বিজেপিতে দেখা করছে আর সেইমতো কাজ করছে। এর মধ্যে এক সাংসদও আছে। তুমি ছেলের টিকিট চেয়েছিলে। আরও পড়ুন: ‘মন ছুঁই’ নিয়ে ফিরছেন নয়ের দশকের সাড়া জাগানো পরিচালক স্বপন সাহা

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক ও দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, একটু ধৈর্য তো ধরবেন! একটা মিটিংয়ের পর সঙ্গে সঙ্গে চিঠি! সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে দিল্লিতে গ্যারেজে দাঁড়িয়ে থাকা! ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তো সিপিএম তাড়িয়ে দেওয়ার পর এই তৃণমূল কংগ্রেস বুক দিয়ে আগলে রেখেছিল। রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল। আইএনটিটিইউসির সভাপতি করেছিল। তার একবার মনে হল না দল থেকে টিকিট দিয়ে জিতিয়ে এনেছে। পার্টি জিতলে তো মন্ত্রী হতেন! সব সময় ক্ষমতার সঙ্গে থাকতে হবে, ক্ষমতার গুডবুকে থাকতে হবে! আর সন্দীপন সাহা? তিনি তো স্বর্ণকমল সাহার ছেলে বলে টিকিট পেয়েছেন! অন্য একজনকে কেটে তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। তবে সেই স্বপন সমাদ্দার কি দোষ করেছিল! দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ সামনে রেখে তাঁর ছবি সামনে রেখে তৃণমূলের প্রতীকে জিতেছে। আর এখন দলের ভেতরকার কথা সরাসরি অধ্যক্ষকে জানাচ্ছেন!

–

–

–

–

–

–
–
–
