Saturday, June 13, 2026

নতুন সরকারের ‘অনভিজ্ঞতা’ ঢাকতে তৎপর নবান্ন, মন্ত্রীদের জন্য এটিআই-এ ‘ক্র্যাশ কোর্স’

Date:

Share post:

ক্ষমতায় এসেছে নতুন সরকার। কিন্তু মন্ত্রিসভার একটি বড় অংশেরই নেই কোনও পূর্বতন প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। এই পরিস্থিতিতে নতুন মন্ত্রীদের দফতরের কাজকর্মে তুখোড় করে তুলতে কোমর বেঁধে নামল নবান্ন। দায়িত্ব হাতে নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই শনিবার সল্টলেকের নেতাজি সুভাষ প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে (এটিআই) আয়োজন করা হলো মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের। সরকারি ফাইল সামলানো থেকে শুরু করে আর্থিক বিধিনিষেধের খুঁটিনাটি— নবাগত মন্ত্রীদের প্রশাসনিক ‘ক্র্যাশ কোর্স’ করালেন রাজ্যের শীর্ষ আমলারা। শিবিরের শেষ পর্বে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিলেন, কোনও ফাইল টেবিলে আটকে রাখা চলবে না।

নবান্ন সূত্রের খবর, বর্তমান মন্ত্রিসভার এক বিরাট অংশই প্রথমবার বিধানসভায় জিতে সরাসরি মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেয়েছেন। ফলে সরকারি ফাইলের গতিপ্রকৃতি, নোট লেখা, ফাইল অনুমোদনের স্তরবিন্যাস বা আন্তঃদফতর সমন্বয়ের মতো জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলি অনেকের কাছেই সম্পূর্ণ নতুন। সচিবালয়ের দৈনন্দিন কাজ কীভাবে মসৃণভাবে চালানো সম্ভব, তা হাতে-কলমে শেখাতেই এ দিনের বিশেষ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির আয়োজন। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত-সহ বিভিন্ন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকেরা। মন্ত্রীদের শেখানো হয়, কীভাবে দ্রুত ফাইল নিষ্পত্তি করতে হবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সচিব পর্যায়ের আমলাদের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি।

বিকেলের দিকে এই প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, সেখানে মন্ত্রীদের একাগ্রতা ও গতি বাড়ানোর মন্ত্র দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রশাসনে কোনও ধরনের গাফিলতি বা ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। জনস্বার্থে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কাজ করতে গিয়ে কোনও জটিলতা তৈরি হলে তা সংশ্লিষ্ট দফতরের সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করে মেটাতে হবে, প্রয়োজনে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের (সিএমও) দরজা খোলা রয়েছে বলেও অভয় দেন তিনি।

নতুন সরকারের এই উদ্যোগকে অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী শিবির। বিরোধীদের একাংশের বক্তব্য, রাজ্যের ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথমবার সরকার গড়ার পর মন্ত্রীদের প্রশাসন চালানোর প্রাথমিক পাঠ শেখাতে আলাদা করে ক্লাসরুমের ব্যবস্থা করতে হলো। ভোটের আগে যাঁরা রাজ্য চালানোর বিকল্প মডেলের ঢাক পিটিয়েছিলেন, এখন ফাইলে নোট লেখা শিখতেই তাঁদের দিন কাবার হচ্ছে।

আরও পড়ুন- এবার কি হাতছাড়া প্রতীক ‘জোড়া ফুল’! ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম কাদের? স্পষ্ট নির্দেশ আছে আইনে

_

_

_

_

_

_

Related articles

তৃণমূল ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া: মমতাকে চিঠি

কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল হয়ে এবার কি বিজেপির পথে মানস ভুঁইয়া? তৃণমূলের দুঃসময়ে যখন বিধায়ক থেকে সাংসদরা দল ছেড়ে...

নীরব-মামলায় পিএনবি কর্তাদের ক্লিনচিট দিল সিবিআই, বিশেষ আদালত থেকে মামলা সরল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে

পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) জালিয়াতি মামলায় বড়সড় মোড়। পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার...

যুব তৃণমূল সভানেত্রীর পদ থেকে সায়নীর বিদায়: গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কুণাল

নতুন করে সংগঠনকে সাজিয়ে তুলছেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পথে একগুচ্ছ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। শনিবার নেত্রীর বাসভবনে...

স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক! রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব যৌথ মঞ্চের নেতা ভাস্কর

সরকারি কর্মীদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক! রাজ্যের তহবিল থেকে যাঁরা বেতন, সাম্মানিক বা পারিশ্রমিক পান— সেই সমস্ত শিক্ষক,...