ভোটের আগে কংগ্রেসে অন্তর্কলহ আরও প্রকট, এবার রাহুলকে খোঁচা সলমন খুরশিদের

মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার মত দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা ভোট হতে বাকি মাত্র বারোদিন। এই সময়ে কোথায় সক্রিয় প্রচারে ঝড় তুলবে কংগ্রেস, তা নয়, ভোটের আগেই যেন হেরে বসে আছে সবচেয়ে বেশি সময় দেশ শাসন করা শতাব্দীপ্রাচীন দল। গুরুত্বপূর্ণ দুই রাজ্যের নির্বাচনের আগে দলের প্রবীণ ও নবীন নেতাদের বিরোধ চরমে। প্রকাশ্যে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ, পদত্যাগের হুমকি, দলত্যাগ সবই চলছে লাগামছাড়া। কয়েক মাস আগেও যিনি কংগ্রেসে সর্বেসর্বা ছিলেন সেই রাহুল গান্ধী পর্যন্ত ভোটে প্রায় কোনও দায়িত্বই পালন করেননি। লোকসভার বিপর্যয়ের পর তাঁর মা সোনিয়ার সভাপতিত্বে অগ্নিপরীক্ষার মুখে কংগ্রেস, অথচ খোদ রাহুলই চলে গেলেন বিদেশে। প্রচার অথবা সাংগঠনিক বিষয় কোনওকিছুতেই মাথা ঘামাতে রাজি নন ওয়েনাড়ের সাংসদ।

দলে এই মুহূর্তে সোনিয়া-ঘনিষ্ঠ আহমেদ প্যাটেল ও প্রবীণ নেতারা ছড়ি ঘোরাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই আহমেদ প্যাটেল রাহল জমানায় কোণঠাসা হয়ে গিয়েছিলেন। সোনিয়া নেতৃত্বে ফিরতেই তিনি আবার স্বমূর্তিতে। এখন সংগঠনে বেছে বেছে রাহুল-ঘনিষ্ঠ নেতাদের উপর কোপ পড়ার অভিযোগ উঠছে। টিকিট বন্টনেও রাহুল-ঘনিষ্ঠরা পাত্তা পাননি বলে অভিযোগ। দিন কয়েক আগেই টিকিট দুর্নীতি ও দলে অসম্মানের অভিযোগ তুলে সোনিয়ার কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন হরিয়ানা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অশোক তানোয়ার। দলে অসম্মানের অভিযোগ তুলে প্রচার থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা সঞ্জয় নিরুপম। তিনি পদত্যাগেরও হুমকি দিয়েছেন। এর মধ্যে আবার রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সলমন খুরশিদ। তিনি খোলাখুলি স্বীকার করেছেন কংগ্রেস এখন অস্ত্বিত্বের সংকটে ভুগছে। সমন্বয়ের অভাব প্রকট। নিয়ন্ত্রণহীনতা স্পষ্ট হচ্ছে। রাহুলকে বিঁধে খুরশিদ বলেন, আমাদের নেতাই অভিমান করে বেরিয়ে গিয়েছেন। লোকসভায় দলের বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখার আগেই তিনি পদত্যাগ করে দেন। দলে এখন যে অন্তর্কলহ চলছে তা সামাল দেওয়া একা সোনিয়া গান্ধীর পক্ষে সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন-সেভিংস অ্যাকাউন্ট-ফিক্সড ডিপোজিটে সুদ কমাল SBI