“ভিডিও দেখা হোক, ভাঙচুর-কাণ্ডে আমি যুক্ত ছিলাম না”, বিধানসভায় জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

মাঝে কেটে গিয়েছে ১৩টি বছর৷

২০০৬ সালের বিধানসভার মধ্যেই ঘটে যাওয়া এক বিতর্কিত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় তৎকালীন বিরোধীনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম৷

২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সেই বিধানসভায় দাঁড়িয়েই চ্যালেঞ্জের সুরে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

শুক্রবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করলেন, তাঁর নামে অপপ্রচার চলছে৷ সেদিন তিনি বিধানসভা ভাঙচুর করেননি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সেদিন তাঁর চটি কেড়ে নিয়েছিল বিধানসভার নিরাপত্তারক্ষীরা। বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তীর করা এক প্রশ্নের উত্তরে এমনই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর এ রাজ্যের বিধানসভায় শীতকালীন অধিবেশন চলছিলো৷ সিঙ্গুর- আন্দোলন তখন তুঙ্গে৷ ওইদিন সিঙ্গুরে ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন মমতা। সেখান থেকে কলকাতায় ফিরেই ঢুকে পড়েন বিধানসভায়৷ ভিডিও- ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবিধানের প্রতিলিপি হাতে নিয়ে চিৎকার করে দলের বিধায়কদের বলছেন যে তাঁর ওপর পুলিশি হামলা হয়েছে৷ এটা শোনার পরই
উত্তেজিত হয়ে তৃণমূল বিধায়করা সঙ্গে সঙ্গে
বিধানসভার ঐতিহ্যবাহী এবং শতাব্দীপ্রাচীন আসবাব ভাঙচুর শুরু করে দেন৷ একের পর এক মহামূল্যবান আসবাব খান খান হয়ে যায়৷ ওই ভিডিওতেই দেখা গিয়েছে এই তাণ্ডবের দৃশ্য৷ প্রথমে বিধানসভা কক্ষের বাইরের লবিতে এবং পরে ভিতরেও ব্যাপক ভাঙচুর হয়।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন জোরের সঙ্গে দাবি করেন, “বিধানসভা ভাঙচুর কে বা কারা করেছিলো, ভিডিও দেখানো হোক৷ আমি বিধানসভায় সেদিন গিয়েছিলাম পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য৷ সেদিন কোনও ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না৷”

২০০৬ সালে রাজ্য বিধানসভার অন্দরের সেই বেনজির ঘটনার পর তৎকালীন শাসক দলের অভিযোগ ছিলো, তৃণমূল সুপ্রিমোর উপস্থিতিতে ভাঙা হয়েছে বিধানসভা! এতদিন পর শুক্রবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সেই অভিযোগের জবাব দিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ চ্যালেঞ্জের সুরে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি সেদিন কোনও ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না৷ ফুটেজ দেখলেই তা প্রমান হবে৷ একইসঙ্গে তিনি সুজনবাবুকে বলেন, “আমি কোনও জিনিসে হাত দিইনি। আপনি আপনার দাবি প্রমাণ করুন অথবা প্রত্যাহার করুন।”