পাখির চোখ বিধানসভা ভোট, বাংলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অফিস করছেন শাহ !

কলকাতায় একদিনের সফরে এসে ৯০ শতাংশ সময় ব্যস্ত ছিলেন সংগঠনের কাজে। আসলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন তাঁর পাখির চোখ ।

বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি এবার কলকাতায় ঘাঁটি গেড়ে বসার পরিকল্পনাও নিয়েছেন । সূত্রের খবর, বাইপাস বা রাজারহাটে বাড়ি ও অফিস দেখা শুরু হয়ে গিয়েছে ।
লোকসভা ভোটে মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, দিল্লিতে পর্যূদস্ত হয়েছে বিজেপি। হরিয়ানা কোনওমতে ধরে রেখেছে বিজেপি । মুখে যাই বলুন না কেন, অমিত শাহ ভালোই জানেন বাংলা দখল সহজে করা যাবে না ।CAA, NRC-র একটা বিরূপ প্রভাব পড়া সম্ভাবনা ভোটে। আসলে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছে, রাজ্য নেতৃত্ব নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের সমর্থনে প্রচারকৌশল সাজাতে ব্যর্থ । এমনকি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ক্যারিশ্মার সঙ্গে টক্কর দেওয়ার মতো নেতা নেই ৬, মুরলিধর লেনে। তাই রাজ্য নেতৃত্বের ওপর ভরসা না রেখে প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি নিজেই হাল ধরতে চাইছেন। রবিবার শহিদ মিনারের সভার পর রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানেই জানিয়ে দেন, এপ্রিল থেকে মাসে এক-দুবার রাজ্যে আসবেন। আর পুজোর পর আরও বেশি করে নজর দিতে চান এ রাজ্যে । রাজ্য নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়েছেন, একটি বাড়ি ও অফিস খোঁজার । তাঁর নির্দেশ পেয়ে বাইপাস ও রাজারহাটে বাড়ি-অফিস খোঁজার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই অফিস থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাজ চালাবেন অমিত শাহ।
গত লোকসভা ভোটে বিজেপি রীতিমতো বেগ দিয়েছেে শাসক দলকে। বিজেপি ১৮টি আসন পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছেন মমতাও। প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে তৃণমূল।
লোকসভা ভোটে দ্বিতীয়বার মোদি সরকার আসার দিনই দিল্লিতে নতুন পার্টি অফিস থেকে শাহ ঘোষণা করেছিলেন,এবার বাংলা জয় করাই লক্ষ্য ।
উত্তরপ্রদেশে লোকসভা ভোটে একবার নয়, দু’বার নিজের কেরামতি দেখিয়েছেন শাহ। অধিকাংশেরই ধারণা, বাংলায় লড়াইটা হবে মোদি বনাম মমতা। কিন্তু এটা তো ঠিক যে মোদি মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নন। বিজেপির সংগঠনের অবস্থাও খুব ভালো নয়। নেতা নেই, সংগঠন নেই, নজরকাড়া মুখ নেই। তাই একুশের লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাংলায় থেকেই ঘুঁটি সাজানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে চান অমিত শাহ। আসলে মোদি বনাম মমতা লড়াইটা সামনে থাকলেও , নেপথ্যে থাকবেন অমিত শাহ ও প্রশান্ত কিশোর।