আর্থিক মন্দায় অনুদান বাড়িয়ে, কর ছাড় দিয়ে পুজো কমিটির পাশে মুখ্যমন্ত্রী

লকডাউনের জেরে দেশ জুড়ে আর্থিক মন্দা। এই পরিস্থিতিতে দুর্গোৎসব করতে গেলে পুজো কমিটিকে আর্থিক সমস্যায় পড়তে হবে। এই সমস্যার কথা বুঝেছেন স্বয়ং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কারণেই এবার পুজো কমিটিগুলির জন্য অনুদান বাড়িয়ে দিলেন তিনি। প্রত্যেক পুজো কমিটিকে 50 হাজার টাকা করে অনুদান দেবে রাজ্য সরকার। এর পাশাপাশি, পুরসভা ও পঞ্চায়েত তাদের কর এবং দমকল ফি মকুব করছে। পুজোর জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে 50% ছাড়ে। বৃহস্পতিবার, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে এই ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক পুজো উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে কী কী করছে রাজ্য সরকার:
• সব পুজো কমিটিকে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে
পঞ্চায়েত, পুরসভা কোন কর নেবে না
• দমকল পুজোর জন্য কোনও ফি নেবে না
• সিইএসসি ও রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ পঞ্চাশ শতাংশ ছাড় দেবে

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতিমারি পরিস্থিতিতে স্পনসরশিপ বা বিজ্ঞাপন পেতে উদ্যোক্তাদের অসুবিধে হবে। সেই কারণেই রাজ্য সরকার তার সীমিত ক্ষমতার মধ্যে থেকে এই সহায়তা দেবে।

এদিন এবারের পুজোর মণ্ডপসজ্জা এবং পুজো পরিক্রমা সংক্রান্ত বিষয় বিভিন্ন নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছু লোক আছে যারা সমালোচনার জন্যই বসে থাকে। সুতরাং যদি দুর্গোৎসবে পরে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যায়, তাহলে তারা সমালোচনা করবে। আবার দুর্গাপুজোর নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করলেও তারা রাজনীতি করবে। মুখ্যমন্ত্রী পুজো-বৈঠকে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হবে সংক্রমণ রোগ দুর্গোৎসব করা”। এই কারণে এবার হচ্ছে না রেড রোডে বিসর্জনের কার্নিভাল। আগামী বছরে দ্বিগুণ উৎসব করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন- কোভিডে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন পরমাণু বিজ্ঞানী শেখর বসু

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, গ্লোবাল অ্যাডভাইজারি বোর্ডেরও পরামর্শ অনুযায়ী এবারের পুজোর ক্ষেত্রে থেকে নির্দেশ দিয়েছেন মমতা-
• খোলামেলা মণ্ডপ
• মণ্ডপের উপরের দিক যদি ঢাকা থাকে, তাহলে চারিদিকটা খোলা রাখতে হবে
• চারিদিকটা ঢাকা থাকলে, ছাদটা খোলা রাখতে হবে
• মণ্ডপে প্রবেশ এবং প্রস্থানের জন্য আলাদা দরজা
• শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা
• পুজো মণ্ডপে স্যানিটাইজার রাখতেই হবে
• মণ্ডপের ঢোকার 500 মিটার আগে থেকেই স্যানিটাইজার দিতে হবে
• সবাইকে মাস্ক পরে মণ্ডপে ঢুকতে হবে
• খুব দরিদ্র কেউ যদি মাস্ক কিনে পরতে না পারেন, তাহলে পুজো উদ্যোক্তা বা পুলিশকে তাদের মাস্ক দিতে হবে
• না হলে ওড়না বা আঁচল কিছু দিয়ে মুখ নাক ডেকে মণ্ডপে প্রবেশ করতে হবে
• পুজোর ভলেন্টিয়ারদের মাস্কের সঙ্গে ফেস শিল্ড দিতে হবে
• বড় করে পুজো উদ্বোধন নয়
• তৃতীয় থেকে রাতভর মণ্ডপ পরিদর্শন করা যাবে
• অঞ্জলির সময় চেষ্টা করতে হবে বাড়ি থেকেই ফুল-বেলপাতা নিয়ে যেতে
• প্রয়োজনে দূর থেকে মাইকে মন্ত্র শুনে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পরামর্শ
• এক সময় না করে, আলাদা আলাদা সময় সিঁদুরখেলা করতে হবে
• এবার পুজোর সময় সংলগ্ন এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়
• একসঙ্গে প্রচুর গাড়ির কনভয় নিয়ে পুজো পরিক্রমা নয়
• যেসব সংস্থা পুজোতে পুরস্কার দেয় তারা একসঙ্গে যাবে না
• একসঙ্গে দুটোর বেশি গাড়ি নিয়ে যাবে না
• পুজোকে পুরস্কৃত করার সময় সকাল 10 টা থেকে দুপুর তিনটের মধ্যে
• ‘বিশ্ব বাংলা’র তরফ থেকে ভার্চুয়ালি পুজো মণ্ডপ দেখে, পুরস্কার ঘোষণা করা হবে
• বাকিরাও সেই চেষ্টা করলে ভালো
• পুজো কমিটিগুলিও প্রত্যেককে ভালো ভাবে নিয়ম বুঝিয়ে দেবে
• বিসর্জনের ক্ষেত্রে বড় মিছিল করা যাবে না
• পুলিশকে নজর রাখতে হবে, একদিনে সব বিসর্জন যেন না হয়
• ঘাটগুলিতে প্রচুর আলোর ব্যবস্থা করতে হবে
• অল্প লোক নিয়ে প্রতিমা নিরঞ্জনে যেতে হবে
• আগে থেকে ঘাট স্যানিটাইজ করতে হবে, বারবার স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে

সব শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “করোনা হেরে যাক, বাংলা জিতে যাক”।

আরও পড়ুন- গিলগিট-বালুচিস্তানকে নতুন প্রদেশ তৈরির ভাবনায় প্রবল চাপে ইমরান সরকার