মীরদার কথায় আপনার মজা লাগে, হাসি পায়- হাসির তো ধর্ম নেই, তাই না?

দেবী সাহা, সঞ্চালিকা

দেবী সাহা, সঞ্চালিকা

সেদিন শুটিং সেরে ফেরবার পথে গাড়িতে বসে যখন সারাদিন কী কী ছবি উঠল দেখছি, একটা ছবিতে চোখ আটকায় দুজনেরই। এটাকে কভার করলে কেমন হয়? পারফেক্ট অ্যালাইনমেন্ট! আর যেহেতু “পুজো মুড” শুরু। সুতরাং মীরদার এবং আমার কভারে তৎক্ষনাৎ সেই ছবি৷ এবং নিমেষেই “মীর আফসার আলি”র উপলব্ধি – এই ছবি দেখে ট্রোলারদের লালা ঝরবে। “একদিন মুহাম্মদ আর আয়েশা সাজুন দেখি আপনারা!” ধরনের কমেন্টে ভরবে এই ছবি! সুতরাং মীরদার ওয়ালে সেই ছবির কমেন্ট সেকশনে ঢোকবার সাহস হয়নি আমার। গতকাল মীরের অন্য একটা ছবিতেও ঘেন্না ঢেলেছে মৌলবাদীর দল। কারণ সেই, “পুজো মুড”। তাই ভাবলাম এটা বলা জরুরি –
শুটিংয়ে ওই যে জুতোটা দেখছেন মীরের পায়ে, ওটা পরে মীরের খুব অসুবিধে হচ্ছিল৷ পায়ে লাগছিল খুব। ওই যে মুগুরটা হাতে, ওটা বেজায় ভারী! মাথায় মুকুটটা, শিংদুটো এত বিকট বড় আর পলকা- একটু এদিক-ওদিক করলেই কিছুতে লেগে ভেঙে যেতে পারত। মুগুরে লেগে ভেঙে যাবার চান্স সবচেয়ে বেশি! কস্টিউমটা এত মোটা আর ভারী যে আমি বার তিনেক সত্যি সত্যি ত্রিশূলের খোঁচা দিয়েছি- বুঝতেই পারেনি। এসব পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লম্ফঝম্প, অট্টহাসি – ফ্লোর মাতিয়ে রেখেছিল মীর ৷ গোঁফে ওপরের ঠোঁট ঢাকা – তাও সাবলীল উচ্চারণ, অনবদ্য অভিনয়! পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলতে, অভিনয় করতে গিয়ে আমি কেঁচোর মত হয়ে গেছিলাম। আমার লাইনগুলোও ঠিক করে দিচ্ছিল আপনাদের মীর, আমার মীরদা। ওঃ না ভুল হয়ে গেল বোধ হয়। আপনাদের “মীর আফসার আলি”। নামেই পরিচয়। গোটা নামে আবার অন্যরকম পরিচয়। তাঁর পুজো মুডে ঢুকতে নেই। ঈদে বাবার সঙ্গে ছবিতে ” আমার আব্বা, আমার আল্লাহ্” ক্যাপশন দিতে নেই। অসুর সাজতে নেই। তাহলেই বিপদ। এক পৃথিবী ঘেন্না উপচে পড়বে মীরের ওয়ালে।
অথচ, আপনি মীরের ফ্যান। কেননা, মীর রোজ সাড়ে পাঁচটায় ওঠে, সাকুল্যে চার ঘন্টা ঘুমোয়। আর সারাদিন বিভিন্ন সময়ে কখনও গরমে ঘেমে, কখনও স্টুডিওর হাড় হিম এসিতে, জবড়জং কস্টিউমে একটুও হাঁপায় না। ঠিক কথাটা ঠিক সময় বলতে পারে, মজা করতে পারে। আপনারও মজা লাগে। হাসি পায়। হাসির তো ধর্ম নেই, তাই না? ভাল থাকবেন।
ভাল থাকুক Mir Afsar Ali


____
লেখিকা মীরের সঙ্গে ওই অ্যাড শুটে দেবী দুর্গার ভূমিকায় ছিলেন। দেবী সাহা একজন অত্যন্ত প্রতিষ্ঠ, পরিচিত অ্যাংকার এবং মডেল। দীর্ঘদিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও সংবাদ পাঠিকা এবং সঞ্চালিকা হিসেবে যুক্ত তিনি।

আরও পড়ুন- অনুমতি নেই, তাই বাংলাদেশে আটকে আছে অ্যান্টিজেন টেস্টের উদ্যোগ