রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের ছায়া বেলুড়ে, ভাইবোনের দেহ আগলে রাখলেন দিদি

ফের রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া রাজ্যে। বেলুড়ের বাড়িতে ভাই বোনের পচাগলা দেহ আঁকড়ে বসেছিলেন দিদি। বাড়ির দরজা ভেঙে দুজনের পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তিন থেকে পাঁচদিন আগেই দুজনের মৃত্যু বলে অনুমান পুলিশের।

স্থানীয় জানা গিয়েছে, বেলুড়ের লালা বাবু সায়র রোডে, নিজেদের দোতলা বাড়িতে দুই বোনকে নিয়ে থাকতেন রেলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মনোরঞ্জন সেন। পাড়ায় সেভাবে কারোর সঙ্গে মিশতেন না তাঁরা। বেশ কয়েকদিন ধরেই মনোরঞ্জন বাবুর বাড়ি থেকে পচা গন্ধ পাচ্ছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু বাড়ির কাউকে দেখা যাচ্ছিল না। বুধবার সেই দুর্গন্ধ চরমে ছড়াতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয় মানুষজন। পুলিশ এসে বিস্তর ডাকাডাকির পর দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। দেখা যায়, দাদা মনোরঞ্জন ও দিদি প্রতিমার পচা গলা দেহের পাশে বসে রয়েছে ছোট বোন অনিতা।

আরও পড়ুন : ইডির অভিযোগ থানায়, ইঙ্গিত একাধিক সাংবাদিকের দিকে

মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তিন থেকে পাঁচদিন আগেই মারা গিয়েছিলেন ভাই বোন। বেশ কিছুদিন ধরে পচা গন্ধও পাচ্ছিলেন স্থানীয়রা। ঘরের মধ্যে দুটি মৃতদেহ পড়ে থাকা সত্ত্বেও কেন পাড়া প্রতিবেশি বা আত্মীয়দের খবর দিলেন না অনিতা, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তাঁর মানসিক স্থিতি নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুলিশ। আপাতত অনিতাকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। তিনি মানসিকভাবে সুস্থ কীনা, তা পরীক্ষা করে দেখা হবে।

প্রসঙ্গত, বছর পাঁচেক আগে একই ধরণের ঘটনা ঘটেছিল ৩ নম্বর রবিনসন স্ট্রিটের একটি বাড়িতে। দিদি ও দুই পোষ্যের কঙ্কালের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একটি ফ্ল্যাটে বাস করছিলেন পার্থ দে। শুধু বাস করছিলেন বলা ভুল, কঙ্কালগুলিকে নিয়ম করে খাবার খাওয়াতেন তিনি। তাদের সঙ্গে কথাও বলতেন। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পার্থ দে-কে পাভলবে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হওয়ার পর বাড়িও ফেরেন তিনি। তবে কয়েকবছরের মধ্যে নিজেও আত্মহত্যা করেন পার্থ দে।