“করোনা ইন্সলোপাথি”: দিনে ১০ লিটার অক্সিজেন-প্লাজমা থেরাপি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের? সূত্র

অনিয়মিত রক্তচাপ- শ্বাসকষ্ট-খাওয়ায় অরুচি-অস্থিরতা ইত্যাদি লক্ষণগুলি হঠাৎ প্রকট আকার ধারণ করে অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শরীরে। গতকাল, শুক্রবার বর্ষীয়ান অভনেতা কোভিড আক্রান্ত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতির সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আইটিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁর শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল বলে দেওয়া হয় অক্সিজেন।

তবে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছিল, আজ শনিবার সকালে আগের থেকে কিছুটা ভাল আছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। কিছুটা স্থিতিশীল। তাঁর খিদে কম হলেও ঘুম হয়েছে ভাল। তবে বয়সজনিত কারণে ঝুঁকি রয়েছে। তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কম বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। প্রয়োজনমতো তাঁর অক্সিজেন থেরাপি চলছে। তবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের চেস্ট সিটিস্ক্যানে বুকে তেমন কিছু ইনফেকশন মেলেনি বলেই খবর।


কিন্তু তাতেও কোভিড আক্রান্ত বর্ষীয়ান অভিনেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সেভাবে ঝুঁকি কমেনি। করোনা আক্রান্ত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের চিকিৎসায় এবার সরাসরি প্লাজমা থেরাপির পরামর্শ দিলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। সেই মতো তাঁর শরীরে প্লাজমা প্রয়োগ করা হয়েছে বলে অসমর্থিত সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই তাঁর শরীরে কনভালসেন্ট প্লাজমা প্রয়োগ করা হয়েছে। এমনটাই জানা যাচ্ছে হাসপাতালের একটি অসমর্থিত সূত্রের খবর অনুযায়ী।

আরও পড়ুন- দিল্লির নেতারা কূটকাচালিতে ব্যস্ত, দিলীপ লড়ছেন মাঠে-ময়দানে

এদিকে, অভিনেতার অস্থিরতা এখন চিকিৎসকদের ভাবাচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলা হচ্ছে ”করোনা ইন্সলোপাথি”। যেখানে রোগী থেকে থেকে উত্তেজিত হয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে সৌমিত্রবাবুর খুব দ্রুততার সঙ্গে মস্তিষ্কের এমআরআই করানো জরুরি। কিন্তু ”এজিটেটেড” থাকার দরুণ সেটাও করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, দিনে তাঁর কমপক্ষে ১০ লিটার অক্সিজেন লাগছে বলে জানা যাচ্ছে। যা ভালো লক্ষণ নয়। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল।

হাসপাতাল সূত্রে খবর ছিল, শনিবারই তাঁর চেস্ট-এর সিটি স্ক্যান-সহ একাধিক পরীক্ষা করা হবে। বিশেষ করে রক্তের বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা হওয়ার কথা। সেই রিপোর্ট-এর উপর ভিত্তি করেই বেসরকারি হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। ইতিমধ্যেই মেডিকেল বোর্ড-এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। চেস্ট রিপোর্ট হয়েছে। তবে সেখানে উদ্বেগজনক কিছু মেলেনি। কিন্তু বেশকিছু উপলক্ষ ভাবিয়ে তুলেছে চিকিৎসকদের।

উল্লেখ্য, শুক্রবার হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। সম্প্রতি,কোভিড আক্রান্ত হয়ে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন বর্ষীয়ান অভিনেতা। এরপরই তাঁকে ITU-তে স্থানান্তরিত করা হয়। যেহেতু এই তারকা অভিনেতার বয়স ৮৫ পেরিয়েছে, তাই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে ছিলেন তিনি। অভিনেতা। প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর শারীরিক অবস্থার উপরে নজর রাখা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন- প্রমোটারের বেআইনি কাজ, খবর করায় সাংবাদিককে হুমকি!

গত সোমবার রাত থেকে জ্বর ও করোনার একাধিক উপসর্গ লক্ষ্য করা যায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শরীরে। ওই রাতেই বাড়ি থেকে ফোন করা হয় হাসপাতালে। পরেরদিন চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো সকালই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। এবং ভর্তি করা হয়। এরপর অভিনেতার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

যদিও চিকিৎসকরা জানিয়ে ছিলেন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। জ্বর কমে গেছে। খাওয়া-দাওয়া স্বাভাবিকভাবেই করছেন।এই খবরে কিছুটা উৎকণ্ঠা কমে পরিবার ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অসংখ্য অনুরাগীদের। কিন্তু হঠাৎ নতুন করে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি ঘটে। ফলে নতুন করে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবার ও তাঁর গুণমুগ্ধদের মধ্যে।