ফের তীরে এসে ডুবল তরী, আবার মাঝপথে বন্ধ হল করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল

এর আগে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকার ভ্যাকসিনের ট্রায়াল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এবার আরও এক নামী সংস্থার করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের কাজ বন্ধ হল। মাত্র দু’সপ্তাহ আগেই ৬০ হাজার মানুষের উপর ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করে জনসন অ্যান্ড জনসন। কিন্তু তৃতীয় পর্যায়ে লার্জ স্কেল ট্রায়ালের মাঝপথেই বাধা পড়ল। আচমকাই এক স্বেচ্ছাসেবক অসুস্থ হয়ে পড়ায়, কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হলেন কর্মকর্তারা।

জনসন অ্যান্ড জনসন কর্তৃপক্ষের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “আমরা অস্থায়ী ভাবে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বন্ধ রাখতে বাধ্য হলাম। ফেজ ৩ এনসেম্বেল ট্রায়ালও বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কারণ অংশগ্রহণকারীরা অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কেন সেই স্বেচ্ছাসবকের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিল, তা আগে খতিয়ে দেখা হবে।”

আরও পড়ুন : এবার গোবরের তৈরি চিপ বাঁচাবে নানান কঠিন রোগ থেকে, দাবি কামধেনু আয়োগের চেয়ারম্যানের

প্রসঙ্গত, জনসন অ্যান্ড জনসনের সম্ভব্য প্রতিষেধটির নাম এডি২৬কোভ২এস। জুলাই মাসে প্রথম একটা হনুমানের দেহে প্রয়োগ করা হয়েছিল এই ভ্যাকসিন। সাফল্য পান বিজ্ঞানীরা। এরপরে ১ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের উপর এই ভ্যাকসিন প্রযুক্ত হয়। এরপর ১ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের উপর এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। দেখা যায়, তাঁদের মধ্যে ৯৮ শতাংশের শরীরেই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। জনসন অ্যান্ড জনসনের ক্ষেত্রে ৬০ হাজার মানুষের ওপর সম্ভব্য ভ্যাকসিন পরীক্ষা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ভলেন্টিয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ায়, বন্ধ করা হল ট্রায়াল।

বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা থেকে বাঁচতে ভারতে কমপক্ষে তিনটে করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চলছে। আইসিএমআর ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ইফ ভায়রোলজি ও ভারত বায়েটেকের যৌথ উদ্যোগে তৈরি কোভ্যাক্সিনের প্রথম পর্যায়ের মানবদেহে ট্রায়াল সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে বলে জানা গিয়েছে আইসিএমআরের ওয়েব পোর্টাল থেকে।

আরও পড়ুন : ড্রাইভিং লাইসেন্সের নিয়মকানুনে ফের পরিবর্তন সরকারের, রইল একগুচ্ছ সুবিধা

আরও একটি ভ্যাকসিন প্রার্থী কোভিশিল্ড, যার সঙ্গে সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (‌এসআইআই)‌ ও আইসিএমআর, তারও দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। ট্রায়ালের প্রাথমিক ফলাফল আগামী বছরের জানুয়ারির আগে হাতে পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন এর সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা।