শেষরক্ষা হয়নি, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ, ভাঙাই হবে মিঠুন চক্রবর্তীর রিসর্ট

শেষরক্ষা হলোনা৷ ভাঙ্গতেই হবে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী-সহ বেশ কিছু সেলিব্রিটির রিসর্ট৷

‘এলিফ্যান্ট করিডোর’-এর জন্য তামিলনাড়ুর নীলগিরি জেলার মুদুমালাই জাতীয় উদ্যানের কাছে এক নির্দিষ্ট এলাকায় তৈরি সব রিসর্ট ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলো মাদ্রাজ হাইকোর্ট৷ দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর মাদ্রাজ হাইকোর্টের সেই রায়ই বুধবার বহাল রাখলো দেশের শীর্ষ আদালত।সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চ বুধবার জানিয়েছে, কারো কোনও আপত্তি বা বক্তব্য থাকলে, তা শোনার জন্য ৩ সদস্যের এক কমিটি গঠন করা হবে৷ মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন। এই কমিটিই স্থির করবে ওই ৮০০ রিসর্টকে আদৌ আর অন্য কোথাও করতে দেওয়া হবে কি না।

নীলগিরির হাতি করিডোর নিয়ে ২০১১ সালে মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ে তামিলনাড়ুর মুদুমালাই জাতীয় উদ্যানের পাশে থাকা এলাকায় তৈরি হওয়া সব রিসর্ট ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। ওই রায়ে তামিলনাড়ু সরকারকে হাইকোর্ট পূর্ণ ক্ষমতা দেয়, ওই এলাকাকে তারা “এলিফ্যান্ট করিডর” হিসেবে চিহ্নিত করতে পারবে। এখানেই অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী-সহ বেশ কিছু সেলিব্রিটির রিসর্ট রয়েছে। বুধবার শীর্ষ আদালতের রায়ের পর ভেঙেই ফেলতে হবে ওখানে তৈরি হওয়া ৮০০ নির্মাণ।
নীলগিরির এই রিসর্টগুলির জন্যই এলাকার বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হচ্ছে দাবি করে ১৯৯৬ সালে আদালতে পা রাখেন জানান এ রঙ্গরাজন। ২০০৭-’০৮ সালে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও জনস্বার্থ মামলা করে। এই মামলায় বলা হয়, হাতি করিডোরের গা ঘেঁষে রিসর্টগুলি তৈরি করা হয়েছে৷ সেখানে জনসমাগম বাড়ছে। যার ফলে হাতিদের যাতায়াতের অসুবিধে হচ্ছে। হাতির দল বারবার পথ পরিবর্তন করছে, আর সেই কারনেই জঙ্গল ও বন্যপ্রাণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
২০১১ সালে মাদ্রাজ হাইকোর্ট এই মামলার রায়ে রিসর্টগুলি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। কিন্তু মিঠুন চক্রবর্তী-সহ মোট ৩২ জন রিসর্ট-হোটেল মালিক ওই রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মিঠুন চক্রবর্তীর হলফনামায় বলা হয়েছিলো, তিনি রিসর্টের মাধ্যমে এলাকার বহু আদিবাসী পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন৷
তাছাড়া, আইন মেনেই তিনি ওই এলাকায় রিসর্ট বানিয়েছেন। এ বছরের জানুয়ারিতে এই মামলার শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বলেছিলেন, ‘‘মানুষের উচিত হাতিদের জন্য রাস্তা তৈরি করে দেওয়া।’’