Friday, June 26, 2026

কাল কি ঝাড়খণ্ডের পথেই হাঁটবে বিহার?

Date:

Share post:

করোনা মহামারির মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক যুদ্ধের ফল কাল। বিহার বিধানসভার ২৪৩ আসনে তিনদফায় ভোট হয়েছে। প্রধান প্রতিপক্ষ এনডিএ বনাম মহাজোট। মুখ্যমন্ত্রী পদে নীতীশের বিরুদ্ধে মুখ মহাজোটের নেতা তেজস্বী যাদব। চিরাগ পাসোয়ানের এলজেপি আলাদা লড়ছে। মূল দুই জোটেই একাধিক স্থানীয় দল সামিল হয়েছে। তবে লড়াই মূলত জেডিইউ- বিজেপি জোটের সঙ্গে আরজেডি, কংগ্রেস, বাম জোটের।

প্রায় সব বুথফেরত সমীক্ষাতেই বিহারে নীতীশকুমারের নেতৃত্বাধীন বিজেপি- জেডিইউ জোটের ভরাডুবির ইঙ্গিত। লালুপুত্র তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বে আরজেডি, কংগ্রেস, বামেদের মহাজোট বিহারে ক্ষমতা দখল করতে চলেছে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে সবকটি বুথফেরত সমীক্ষা। কোনও কারণে ত্রিশঙ্কু হলে চিরাগ পাসোয়ানের এলজেপি ও অন্য ছোট দলগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যদিও চিরাগ পাসোয়ানের নেতৃত্বে এলজেপি খুব ভাল করছে এমন কোনও পূর্বাভাস নেই।

বুথফেরত সমীক্ষা সঠিক প্রমাণিত হলে পূর্ব ভারতে ঝাড়খণ্ডের পর আর একটা হিন্দিভাষী রাজ্য যাবে অবিজেপি জোটের দখলে। ঝাড়খণ্ডের মত বিহারেও বিজেপি জোটকে হারিয়ে বিজেপি বিরোধী আঞ্চলিক শক্তির উত্থানের ইঙ্গিত। অর্থাৎ কংগ্রেসের গুরুত্ব যে ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে তা মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ডের পর আবার দেখা যেতে পারে বিহারে। এতে আর একটা বিষয় স্পষ্ট। বিজেপির প্রতিপক্ষ হিসাবে একাধিক রাজ্যেই কংগ্রেস পিছনের সারিতে চলে যাচ্ছে। কোথাও শিবসেনা, কোথাও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা বা কোথাও আরজেডির শরিক হিসাবে প্রাসঙ্গিক থাকতে হচ্ছে কংগ্রেসকে।

আরও পড়ুন:সুশান্ত মৃত্যু: সংবাদমাধ্যম, অ্যাঙ্করদের জবাব তলব দিল্লি হাইকোর্টের

বিহারের ভোটে এনডিএর পরাজয় হলে তা হবে নীতীশের হার, মোদির নয়; এমন একটি প্রচার পরিকল্পিতভাবে বিজেপি করতে চাইবে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে যে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছিল তার পিছনে কেন্দ্রের ভূমিকাই প্রধান, রাজ্যের ভূমিকা নগণ্য। একইসঙ্গে এবারের বিহার ভোটে সিএএ ইস্যুও নজর কেড়েছে। এক্ষেত্রে বিজেপির উল্টো বক্তব্য ছিল নীতীশের। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রচারে এসে সিএএ নিয়ে যা বলেছেন, তা প্রকাশ্য সভায় খারিজ করে সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ। নীতিগত বিষয়ে দুই শরিকের দুই মতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হয়েছেন। আবার তেজস্বীর প্রচারে ১০ লক্ষ কর্মসংস্থানের ঘোষণা এই ভোটে বড় ফ্যাক্টর হয়েছে। এই দাবির বাস্তবতা যাই হোক, করোনা এবং অর্থনৈতিক সংকটের পরিস্থিতিতে কাজের শ্লোগানই সবচেয়ে ক্লিক করেছে। এনডিএ যতই লালু জমানার গুণ্ডারাজ বা আইনশৃঙ্খলার অবনতির কথা প্রচার করুক, দুটি বিষয়ের জন্য এই প্রচার দাগ কাটেনি। ১) লালু নিজেই গোটা ভোটপর্বে অনুপস্থিত। তেজস্বীর মত একদম নতুন প্রজন্ম সামনের সারিতে। ২) নতুন ভোটার বা কমবয়সী ভোটারদের কাছে লালু জমানার স্মৃতি নেই। বরং তারা টানা ১৫ বছর নীতীশের শাসন পর্ব দেখছেন। তাই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তীব্র। শেষ পর্যন্ত কী হয় তার জানতে আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা।

Related articles

নবান্নে কাকলি-শতাব্দী-সুদীপ: শুভেন্দু-সাক্ষাতে কী কথা!

তৃণমূলে বিক্ষোভ দেখিয়ে কমপক্ষে ১৯জন সাংসদ নিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার (Kakoli Ghoshdastidar। জানিয়েছেন তাঁরা...

নেই হাজিরা, মামলা নিষ্পত্তিতে অনীহা, নতুন সরকারের আইনজীবী প্যানেল নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার নতুন সরকারের সরকারি আইনজীবী প্যানেল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতে...

ধান্দাবাজরা চলে গিয়েছে! আসল সম্পদ কর্মীরাই, তৃণমূলই থাকবে: বার্তা নেত্রীর

যারা চলে গিয়েছে যেতে দিন। নিজেকে আর পরিবার বাঁচাতে ধান্দাবাজরা বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। কিন্তু যাদের ঘাম-রক্ত-পরিশ্রম-আত্মত্যাগের বিনিময়ে...

দিদির সঙ্গেই আছি, থাকব! দুর্যোগ উড়িয়ে শপথ জেলা তৃণমূলের কর্মিসভায় 

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল দুর্যোগ শহরজুড়ে। জল থইথই অবস্থা সর্বত্র। এই দুর্যোগের মধ্যেও ভিড়ে উপচে পড়ল...