জট কাটলো আলিপুর চিড়িয়াখানায়, ১০ দিনের মধ্যেই চাকরি দেওয়ার আশ্বাস

সকাল থেকেই কয়েকশো যুবক-যুবতী আলিপুর চিড়িয়াখানার সামনে বিক্ষোভে সামিল হয়। অবশেষে তুমুল টানাপোড়েনের পর কর্মবিরতি তুলে নেয় কর্মী সংগঠন। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই চাকরি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।

কর্মচারী সংগঠনের নেতা রাকেশ সিংয়ের অভিযোগ, চিড়িয়াখানায় কর্মী সংগঠনের ৫ জনের স্থায়ী চাকরি হওয়ার কথা ছিল। তাঁদের লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও আজ ১১০ জনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য চিড়িয়াখানায় পাঠিয়ে দেয় বন দফতর। এ নিয়েই গন্ডগোল বেঁধে যায়। আজ চাকরিতে যোগ দিতে এসেও ভিতরে ঢুকতে বাধা পান শতাধিক যুবক। চিড়িয়াখানার গেটে নিয়োগের কাগজ হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। দর্শকদের চিড়িয়াখানা থেকে বের করে দিয়ে গেটে রীতিমতো তালা ঝুলিয়ে দেয় কর্মী সংগঠন। তবে শেষটায় প্রতিশ্রুতি মিলতে ফের সচল হয় চিড়িয়াখানা।

প্রসঙ্গত, ইউনিয়ন সূত্রে খবর, চিড়িয়াখানার ৪ জন কর্মী অনেকদিন আগেই কাজ করার সময় মারা গিয়েছিলেন। সেই মতো তাঁদের পরিবারের একজন করে সদস্যের চাকরি পাওয়ার কথা ছিল। বহুদিন ধরে সেই নিয়োগের জন্য অনুনয়-বিনয় করা হচ্ছিল। তবে প্রতিবার কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, এই মুহূর্তে কোনও ফাঁকা পদ নেই। পদ ফাঁকা হলেই চাকরি দেওয়া হবে। ঠিক এই জায়গাতেই ইউনিয়নের প্রশ্ন, পদ যদি ফাঁকা না-ই থাকে, তবে এই ১১০ জন পরীক্ষা দিয়ে সুযোগ পেলো কীভাবে? আজ ইউনিয়ন এবং চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক চলে। বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ৮ ডিসেম্বর চিড়িয়াখানার এজিএম ওই ৪ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন। তবে আশ্বাস সত্ত্বেও ইউনিয়ন নিজের দাবিতে অনড়। তাঁদের বক্তব্য, আগে ওই চার পরিবারের একজন করে সদস্যকে চাকরি দেওয়া হবে। তারপরই এই ১১০ জন চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন। ইউনিয়নের দাবি কর্তৃপক্ষের তরফে মেনে নেওয়া হয়। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার আগেই পুনরায় খুলে যায় চিড়িয়াখানার গেট।

আরও পড়ুন-তৃণমূলের কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া, ‘সরকার মানুষের উঠোনে ছিল, এখন দুয়ারে’, বললেন মহুয়া