জঙ্গি সন্দেহে ‘আনসার আল ইসলামের’ ৪ সদস্য গ্রেফতার

খায়রুল আলম (ঢাকা) : ঢাকার সাভার, ভাষানটেক, তেজগাঁও ও যাত্রাবাড়িতে চার যুবক গ্রেফতার হয়েছেন। যাদের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলামের’ সক্রিয় সদস্য বলছে র‌্যাব। যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁরা হলেন চট্টগ্রামের মো. কলিম উল্ল্যাহ (৩৭) ও মো. আলী রাসেল (৩৪), শেরপুরের তাসকিন হাসান আকন্দ ওরফে আনন্দ (১৯) ও নরসিংদীর মো. জাহাঙ্গীর মিয়া ওরফে জহিরুল ইসলাম মাসুদ (২৩)। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর  বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি আনসার আল-ইসলামের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত সাভার, ভাষানটেক, তেজগাঁও ও যাত্রাবাড়ি এই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের হেফাজত থেকে বিভিন্ন ধরনের ১১টি উগ্রবাদী বই, চারটি ট্রাভেল ব্যাগ, জঙ্গি কার্যক্রমে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন সেট ও ১২৬টি জঙ্গিবাদী কথোপকথনের প্রমাণাদি জব্দ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে মো. কলিম উল্ল্যাহ উচ্চশিক্ষা শেষ করে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরির পাশাপাশি অনলাইন/অফলাইনে কাপড়ের ব্যবসা করেন।

তিনি আনসার আল ইসলামের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি অন্যদের উদ্বুদ্ধকরণের জন্য অনলাইনে বিভিন্ন উগ্রবাদী লেখালেখি, ভিডিও ও লিফলেট প্রচার করে আসছিলেন এবং নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ করতেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মো. তাসকিন হাসান আকন্দ ওরফে আনন্দ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

আরও পড়ুন-গঙ্গা জলে “শুদ্ধিকরণ” করে রাজীবের বিতর্কিত অফিসের দখল নিল তৃণমূল

“তিনি বেশ কিছুদিন ধরে আনসার আল ইসলামের সঙ্গে জড়িত থেকে অনলাইনে বিভিন্ন উগ্রবাদী লেখালেখি প্রচার করে আসছিলেন।”
মো. জাহাঙ্গীর মিয়া ওরফে জহিরুল ইসলাম মাসুদ যাত্রাবাড়ীতে একটি মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় গ্রেপ্তারকৃত এই ব্যক্তি বেশ কিছুদিন যাবত আনসার আল ইসলামের সঙ্গে জড়িত থেকে অনলাইনে উগ্রবাদী জিহাদের ভিডিও আপলোড করে সাধারণ জনগণকে উগ্রবাদী মতবাদ সর্ম্পকে উদ্বুদ্ধকরণের চেষ্টা করে আসছিলেন।

মো. আলী রাসেল কারওয়ান বাজারে একটি মাছের আড়তে কাজ করতেন এবং আনসার আল ইসলামের সঙ্গে জড়িত থেকে অন্যান্যদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের পাশাপাশি নতুন সদস্য সংগ্রহ চেষ্টা করে আসছিলেন বলে র‌্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। র‌্যাব-৪ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অন্যান্য সহচরদের গ্রেফতারে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

Advt