Tuesday, March 24, 2026

তার দুঃখ ভোলানোর কেউ নেই, স্মৃতি আকড়ে একাই বাঁচবে এই বাচ্চা মেয়েটি

Date:

Share post:

‘আমি এই ঘরেই থাকতে চাই। বাবা-মায়ের সঙ্গে কত স্মৃতি!’ কথা বলতে বলতে চোখে জল ১৩ বছরের লক্ষ্মী সরকারের। তাঁকে একা ফেলে রেখে নিশ্চিন্তে চলে গেলেন তার বাবা-মা। কে দেখবে এখন ওই বাচ্চা মেয়েটিকে? কার কাছেই বা তার দুঃখের কথা বলবে?

পাঁচ মাস আগে দাদের সংক্রমণ থেকে পচন ধরেছিল লক্ষ্মীর বাবার শরীরে। তারপর থেকে শয্যাশায়ী ছিলেন রাজেশ সরকার। তখন বাড়িতে বেশিরভাগ সময়েই রাজেশবাবুকে দেখভাল করত লক্ষ্মী। বাবার কাছে আদুরে মেয়ে ছিল যে। কিন্তু গত বছর অক্টোবর মাসে মারা যান লক্ষ্মীর বাবা। লক্ষ্মীর মা মুন্নি সরকার। তিনি আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আয়া ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের সামনে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। বাবা মারা যাওয়ার পর মাকেই আকড়ে ধরে বাঁচতে চেয়েছিল ওই ১৩ বছরের লক্ষ্মী। কিন্তু তা আর হল কই! এখনও তো একেবারে একা হয়ে গেল পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া বাচ্চা মেয়েটি।

লক্ষ্মী বলে, “বাবা শয্যাশায়ী ছিল বলে ঠাকুর দেখতে বেরোইনি। বেরোলে যদি করোনা নিয়ে ফিরি। তারপর নবমীর দিন পাড়ার বন্ধুরা জোর করল, সবাই মিলে চাউমিন খেতে যাবে বলে। মা টাকা দিয়েছিল। কিন্তু আর যাওয়া হয়নি। ওই দিনই বাবা মারা গেল।”

আরও পড়ুন-একদিনে রেকর্ড টিকাকরণ, তবে করোনা সংক্রমণও বাড়ছে লাফ দিয়ে

শেষবারের মতো তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সে ঘুরতে গিয়েছিল ইকোপার্কে। সেটাই ওদের ৩ জনের একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া। পরে লক্ষ্মী তার মায়ের সঙ্গে দক্ষিণেশ্বরে ঘুরতে গিয়েছিল। কিন্তু তার বাবা তাদের সঙ্গে যায়নি। তার বাবা আদর করে তাকে ডাকত সোনা মেয়ে বলে, এই বলে সে আবার চোখের জল ফেলতে শুরু করে। লক্ষ্মী বলে চলে, ফ্রায়েড রাইস, চিলি চিকেন, বিরিয়ানি খেতে খুব ভালবাসে সে। অনেক দিন খাওয়া হয়নি সে সব। কারণ, তার মা বলেছিলেন, টাকা হাতে এলে রেঁধে দেবেন। মায়ের মৃত্যুর পরে প্রতিবেশীদের দেওয়া ফল আর মিষ্টি খেয়েই আপাতত দিন কাটছে ওই কিশোরীর।

লক্ষ্মী বলে, “বিরিয়ানির কথা মনে হলেই বাবার কথা মনে পড়ে। বাবা খুব অসুস্থ তখন। তবু হাঁটাচলা করতে পারত। আমার জন্য বিরিয়ানি কিনে এনেছিল। মা বলেছিল, টাকা কোথায় পেলে? বাবা হাসিমুখে বলেছিল, তুমিই তো টাকা দিয়েছিলে। নিজের হাত খরচের টাকা দিয়ে বাবা আমার জন্য বিরিয়ানি কিনে এনেছিল।” খানিকটা সময় চুপ করে থাকে লক্ষ্মী। তারপর আবার সে বলে, “অনেক দিন থেকে বলছি, নাচ শিখব। মা বলেছিল, হাতে একটু টাকা এলেই নাচের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেবে। হাসপাতালে কাজে গিয়ে মা-ও আর ফিরল না!” দমদম রোডের একটি বাড়িতে থাকে লক্ষ্মী। এতদিন সেখানে সে তার বাবা মারা যাওয়ার পর মায়ের সঙ্গে থাকত। এখন সে সেখানে একাই থাকবে বলে জানিয়েছে।

দমদম রোডে ভাড়া বাড়িতে প্রতিবেশীরা তাকে আপাতত আগলে রাখলেও তাঁদের প্রশ্ন, কত দিন চলবে এভাবে? এক স্থানীয় বলেন, “কয়েকদিন লোকে দেখবে। তার পর? আরও এক স্থানীয়র কথায়, “পুলিশ জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে বাচ্চাটার জন্য একটা আবেদন জানাবে বলেছে। ভালো কোনও হোমে রেখে ওর পড়াশোনার ব্যবস্থা হলে খুব ভাল হয়। না হলে ভবিষ্যৎটাই শেষ হয়ে যাবে।”

Advt

Related articles

ঘুচল বিচারাধীন তকমা! স্বস্তিতে তৃণমূল-বিজেপি প্রার্থীরা

নির্বাচনের (Election 2026) আগে বড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীরা (TMC BJP Candidate)। 'বিচারাধীন' তকমা ঘুচে অতিরিক্ত...

ISL: ভোটের জন্য বদল হতে পারে মোহনবাগান-ইন্টার কাশি ম্যাচের দিন

রাজ্যে বিধানসভা ভোট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। ২ দফাতেই হবে ভোট। নির্বাচনের প্রভাব পড়ছে খেলাধুলাতেও। ডার্বির দিন যেমন বদল...

শর্তসাপেক্ষে রামনবমীর মিছিলের অনুমতি কলকাতা হাইকোর্টের 

হাওড়ার রামনবমী (Ram Navami) মিছিলে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট...

IPL: পাথিরানাকে নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, ফিটনেস পরীক্ষায় অনুপস্থিত কেকেআর পেসার

আইপিএল (IPL) শুরুর আগে পাথিরানাকে (Pathirana )নিয়ে চিন্তা ক্রমশ বাড়ছে কেকেআরের(KKR) । চোট পাওয়ার পর ফিটনেস পরীক্ষা দিতে...