জ্বালানী তেলে শুল্ক না কমানোয় তোপ মোদির, পাল্টা আক্রমণ বিরোধীদের

পেট্রোল-ডিজেলে শুল্ক না কমানোয় বুধবার ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে অবিজেপি রাজ্যগুলিকে কাঠগড়ায় তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি(Narendra Modi)। শুধু তাই নয়, কড়া সুরে তিনি জানিয়ে দিলেন নভেম্বর মাসে কেন্দ্র যখন পেট্রোল ডিজেলে এক্সাইজ ডিউটি কমিয়েছিল সেসময় যেসব রাজ্য ভ্যাট কমায়নি, তাঁরা নিজেদের নাগরিকদের সঙ্গে অন্যায় করেছে। ভার্চুয়াল বৈঠকে অবিজেপি রাজ্যগুলিকে দেশের সাংবিধানিক পদাধিকারির এহেন মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ বিরোধীরা। নরেন্দ্র মোদির এহেন আচরণের তীব্র নিন্দা করা রয়েছে তৃণমূলের(TMC) তরফে।

এদিনের বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলির কাছে অনুরোধ করেন ৬ মাস আগে যেসব রাজ্য পারেনি, সেইসব রাজ্য যেন এখন পেট্রল–ডিজেলের ভ্যাট কমায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “‌করোনার এই বিশ্বজনীন সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয় আগের থেকে অনেক বেশি করে প্রয়োজন। উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে পারে পেট্রল–ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে কেন্দ্র সরকার এক্সাইজ ডিউটি কমিয়েছে। সেই সঙ্গে রাজ্যগুলির সরকারকেও আমরা অনুরোধ করেছিলাম তারাও যেন কর কমায়। কিছু কিছু রাজ্য ভারত সরকারের সেই ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে কিছু কিছু রাজ্য নিজেদের নাগরিকদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেনি। এটা শুধু ওই রাজ্যগুলির নাগরিকদের সঙ্গে অন্যায় নয়, পাশের রাজ্যগুলির মানুষের সঙ্গেও অন্যায়।’ পাশাপাশি সরাসরি বাংলা, মহারাষ্ট্র, কেরল, তেলেঙ্গানার নাম নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি নভেম্বরে বলেছিলাম, সব রাজ্য আমার কথা মানেনি। আমি কারও সমালোচনা করছি না। যে কোনও কারণেই হোক তখন আপনারা করতে পারেননি। যে রাজস্ব এই ৬ মাসে আপনারা তুলেছেন ভ্যাট বাবদ, সেটা আপনাদের রাজ্যেরই কাজে লাগবে। শুধু অনুরোধ করছি, আপনারা ৬ মাস আগে যেটা করতে পারেননি, সেটা এখন করুন। আপনাদের নিজের রাজ্যবাসীর স্বার্থে করুন।”

আরও পড়ুন:নেশামুক্তি কেন্দ্রে পিটিয়ে খুন! ধৃত বাড়ির মালিক-সহ ৬

প্রধানমন্ত্রীর এহেন বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নিজে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর পরিপন্থী। অবিজেপি রাজ্যগুলিকে টার্গেট করা হয়েছে বৈঠকে। আর কেন্দ্রের মূল্যবৃদ্ধির নমুনা দেশ দেখেছে। গোটা বিশ্বে যখন অপরিশোধিত তেলের দাম কমছে তখনও ভারতে তেলের দাম বেড়েছে। ৫ রাজ্যের নির্বাচনকে মাথায় রেখে তেলের দাম মাঝে কিছুদিন বাড়ানো হয়নি। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। একজন সাংবিধানিক পদাধিকারি হয়ে আজকের বৈঠকে যেভাবে বিজেপি রাজ্যের প্রশংসা ও অবিজেপি রাজ্যকে টার্গেট করা হয়েছে তাতে স্পষ্ট এই প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর পরিপন্থী।” পাশাপাশি তোপ দেগে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‌”এটা কী ধরনের মিটিং? মিটিংয়ের নামে নিজেদের ব্যর্থতার দায় অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্র সরকার কেন ট্যাক্স কমাচ্ছে না?‌ পেট্রল–ডিজেলের মূল দামটা বাড়ছে কেন? এর উত্তর দিন।”




Previous articleশ্রীনগরে কাজে গিয়ে গুলিবিদ্ধ মালদহের দুই যুবকের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী