কাটছে না শপথের জট: বাবুলের অনুরোধ ফিরিয়ে সংবিধানের দোহাই দিলেন রাজ্যপাল

বিধায়ক পদে বাবুল সু্প্রিয়র শপথ নিয়ে জট কেটেও কাটছে না। বিস্তর টানাপোড়েনের পরে শনিবার, বিধায়ক পদে বাবুল সুপ্রিয়র (Babul Supriyo) শপথগ্রহণে অনুমতি দেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankar)। তবে, স্পিকার (Speaker) নয়, বাবুল সুপ্রিয়কে (Babul Supriyo) শপথগ্রহণ করাবেন ডেপুটি স্পিকার- সেই অনুমতিই দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। তখনই বিষয়টা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে পাল্টা টুইট করেন বালিগঞ্জে তৃণমূল বিধায়ক। এরপর আরও একটি টুইট করেন বাবুল। যেখানে তিনি রাজ্যপালকে অনুরোধ করেন,

“বালিগঞ্জ কেন্দ্রের মানুষদের খাতিরে আপনার কাছে আমার একান্ত অনুরোধ দয়া করে আপনার সিদ্ধান্ত বদলে দিন এবং মহামান্য স্পিকারকেই শপথের দায়িত্ব দিন। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর গত কয়েক মাস ধরেই বালিগঞ্জের মানুষ বিধায়কহীন। আপনি এই অনুমতি দিলে আমি দ্রুত বিধায়ক হিসেবে আমার কাজ শুরু করতে পারি।

এর জবাবে আবার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে টুইট করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। লেখেন,
“১৬১ বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত বাবুল সুপ্রিয়র প্রকাশ্যে মাননীয় স্পিকারের দ্বারা শপথ গ্রহণের জন্য রাজ্যপালকে অনুরোধ করা সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, গ্রহণযোগ্যও নয়।”

দ্বিতীয় টুইটে রাজ্যপাল লেখেন,
“সংবিধানের ১৮৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ১৬১ বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নির্বাচিত বাবুল সুপ্রিয়কে শপথ পাঠ করানো ব্যক্তি হিসাবে ডেপুটি স্পিকার ডঃ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়োগ করা হয়েছে।”

এখানেই শেষ নয় আরও একটি টুইট করেন ধনকড়। সেখানে তিনি লেখেন, “রাজ্যপাল না চাইলে বিধায়ককে শপথগ্রহণের ক্ষমতা স্পিকারের নেই। কাজেই স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে ২৭ এপ্রিল বাবুল তাঁর শপথ নিয়ে যা লিখেছেন, তা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে ত্রুটিপূর্ণ।”

বিধায়কদের শপথগ্রহণ করানোর ক্ষমতা সাধারণত বিধানসভার স্পিকারদের দেন রাজ্যপালরা। কিন্তু ধনকড় তা নিজের কাছে ফিরিয়ে নিয়েছেন। ফলে জয়ী প্রার্থীর শপথগ্রহণের অনুমতি তাঁর থেকেই নিতে হচ্ছে। তার জেরে রাজ্যপাল চাইলে নিজেই বিধায়ককে শপথগ্রহণ করাতে পারেন। বা তাঁর মনোনীত কেউ শপথগ্রহণ করাতে পারেন। সেই কারণে বাবুলের শপথগ্রহণের অনুমতির জন্য রাজভবনে চিঠি পাঠানো হয়। রাজ্যপাল শর্ত রাখেন, রাজ্যের বেশকিছু বিল ও প্রস্তাবের আলোচনার বিস্তারিত বিবরণ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি শপথগ্রহণের অনুমতি দেবেন না। এই নিয়ে ফের রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্যের সংঘাতের আবহ তৈরি হয়। অবশেষে শনিবার শপথের অনুমতি দেন রাজ্যপাল। কিন্তু এবার এই ডেপুটি স্পিকারের বিষয়টা নিয়ে আবার শুরু হয়েছে বিতর্ক। কারণ, ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা তিনি পালন করতে পারবেন না। কারণ, এটা কার্যকর হলে, তা বিধানসভার স্পিকারের পদের অবমাননা হবে। তাই বাবুলকে শপথগ্রহণ করানোর চিঠি তাঁর কাছে তিনি তা প্রত্যাখান করবেন।

এবার নতুন করে জটিলতা দেখা দেওয়ায়, বিধায়ক পদে শপথগ্রহণ কবে হবে, তা নিয়ে জটিলতা জিইয়ে থাকল।

আরও পড়ুন- স্পিকার নয়, ডেপুটি স্পিকারের কাছেই শপথ নিতে হবে বাবুলের! হতবাক রাজনৈতিক মহল

 

 

Previous articleস্পিকার নয়, ডেপুটি স্পিকারের কাছেই শপথ নিতে হবে বাবুলের! হতবাক রাজনৈতিক মহল