আত্মঘাতী কনস্টেবল মানসিক অবসাদে ছিলেন, দাবি পুলিশ কমিশনারের! পরিচয় জানা গেল মৃত-আহতদের

বাইক আরোহী ওই মৃতা মহিলার নাম রিমা সিং। তিনি হাওড়ার দাশনগরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। আরও দু'জন আহত। তাঁরা SSKM হাসপাতালের ট্রমাকেয়ার সেন্টারে চিকিৎসাধীন

পার্ক সার্কাসের ঘটনায় আত্মঘাতী পুলিশ কর্মী চডুপ লেপচা
মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন, এমনটাই দাবি করলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল। কলকাতা সশস্ত্র পুলিশের পঞ্চম ব্যাটেলিয়নের কনস্টেবল ছিলেন  লেপচা।

এদিন ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল বলেন, “চডুপ লেপচা গতবছর কাজে যোগ দিয়েছিলেন কলকাতা পুলিশে। তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। কালই ছুটি থেকে ফিরে কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে কেন এই ঘটনা ঘটালেন, কেন আত্মঘাতী হলেন, গোটা ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে বিনীত গোয়েল বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভিতরে গিয়ে আত্মঘাতী কনস্টেবলের সহকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। জানা গিয়েছে, সহকর্মীদের কাছে তিনি চা খেতে যাওয়ার নাম করে বেরোন।

একইসঙ্গে পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় একজন মহিলা গুরুতর আহত। তবে হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই মহিলাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে চিকিৎসকদের তরফে। গুলিতে বাইক আরোহী ওই মৃতা মহিলার নাম রিমা সিং। তিনি হাওড়ার দাশনগরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। আরও দু’জন আহত। তাঁরা SSKM হাসপাতালের ট্রমাকেয়ার সেন্টারে চিকিৎসাধীন। আহতদের দুজনেই গুলিবিদ্ধ বলে জানা গিয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের নাম মহম্মদ সারফারোজ। ১৯ বছরের সারফারোজ ছাত্র বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বাড়ি আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে। আরেকজন ক্যাব বাইক আরোহী। বাড়ি কলিন স্ট্রিটে।
মৃতা রিমা সিং তাঁর গাড়িতেই ছিলেন।

উল্লেখ্য, আজ শুক্রবার ভরদুপুরে পার্ক সার্কাসে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের অদূরেই এলোপাথাড়ি গুলি চালান এক পুলিশকর্মী। এই ঘটনায় এক বাইক আরোহী মহিলা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন। এরপরে ওই পুলিশ কর্মী নিজের সার্ভিস রাইফেল দিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। বেশ কয়েকটি গুলি লাগে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি গাড়িতেও। আত্মঘাতী হওয়ার আগে প্রায় ১০-১৫ রাউন্ড গুলি চালান ওই পুলিশ কর্মী।

বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন ওই নিরাপত্তাকর্মী। ডেপুটি হাইকমিশনের অদূরেই গোলাগুলির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কড়েয়া থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, ওই পুলিশ কর্মী মানসিক অবসাদগ্রস্ত ছিলেন। ইতিমধ্যেই দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।


 

Previous articleHooghly: দিনে ১১ ঘণ্টা পড়াশোনা, উচ্চ মাধ্যমিকে তৃতীয় চন্দননগরের সোহম