তিহার জেলে অনশন জম্মু ও কাশ্মীরের কুখ্যাত জঙ্গিনেতা ইয়াসিন মালিকের

বিচার প্রক্রিয়ায় গলদ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মামলার সঠিকভাবে তদন্ত হচ্ছে না, এই অভিযোগ তুলেই তিহার জেলে অনশন শুরু করল জম্মু ও কাশ্মীরের কুখ্যাত জঙ্গিনেতা ইয়াসিন মালিক(Yasin Malik)। জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল থেকে খাবার ও জল ত্যাগ অরেছেন তিনি। এদিকে সূত্রের খবর, ইয়াসিনের অনশন ভাঙতে তার সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছেন তিহার জেলের(Tihar Jail) আধিকারিকরা। যদিও অনশনের সিদ্ধান্তে অনড় ইয়াসিন।

নিষিদ্ধ কাশ্মীরি জঙ্গি সংগঠন ‘জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট’ (জেকেএলএফ)-এর প্রধান ইয়াসিন মালিক। নব্বইয়ের দশকে কাশ্মীরে (Kashmir) ত্রাস হয়ে উঠেছিল এই জেকেএলএফ। ‘স্বাধীনতার’ নামে সেনা জওয়ান থেকে শুরু করে নিরীহ জনতাকে নিশান করেছিল পাক মদতপুষ্ট ওই জেহাদি সংগঠন। ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর উপত্যকায় জোর ধরপাকড় শুরু করে ভারতীয় সেনা। তখনই ইয়াসিন মালিক-সহ বেশ কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার জঙ্গিযোগের প্রমাণ সামনে আসে। উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদীদের অর্থ জোগান দেওয়ার অভিযোগে ইয়াসিন মালিককে গ্রেপ্তার করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। ২০২০ সালে ইয়াসিনের বিরুদ্ধে টাডা ও অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়। স্পষ্টভাবে জানানো হয়, ১৯৯০ সালে শ্রীনগরে বায়ুসেনা আধিকারিকদের হামলায় জড়িত ছিল তারা। আদালতে এই মামলা চলাকালীন নিজের অপরাধ স্বীকার করে মালিক। ২৫শে মে জঙ্গি সংগঠন জেকেএলএফের প্রধান ইয়াসিনকে যাবজ্জীবন জেলের সাজা দেয় এনআইএ-র বিশেষ আদালত। মে মাসের ১৯ তারিখ সন্ত্রাসবাদীদের মদত এবং অর্থসাহায্য মামলায় বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিককে দোষী সাব্যস্ত করেছিল দিল্লির আদালত। সেখানে নিজেই জঙ্গিদের মদত দেওয়ার কথা স্বীকার করে নেয় ইয়াসিন মালিক।

শুধু তাই নয়, মালিককে অপহরণকারী হিসাবে চিহ্নিত করেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মহম্মদ সইদের কন্যা রুবাইয়া সইদ। প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালে রুবাইয়াকে অপহরণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত পাঁচ জন সন্ত্রাসবাদীর মুক্তির বিনিময়ে রুবাইয়াকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এই মামলায় সঠিক তদন্ত হচ্ছে না অভিযোগ তুলে তিহারে অনশনে ইয়াসিন মালিক।


Previous articleSSC Scam: পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পর এবার গ্রেফতার করা হল অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে