মরশুমের প্রথম জয় বাগানের, হ‍্যাটট্রিক দিমিত্রির

দিমিত্রির হ্যাটট্রিক ছাড়া বাগানের বাকি দু’টি গোল কাউকো এবং লেনি রডরিগেজের।

আইএসএল-এ প্রথম জয় এটিকে মোহনবাগানের। রবিবার ৫-২ গোলে হারাল কেরলা ব্লাস্টার্সকে। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত কামব্যাক করে কোচি থেকে পুরো তিন পয়েন্ট আনছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। কোচিতে ৬০ হাজার দর্শকের শব্দব্রহ্ম থামিয়ে কেরালা ব্লাস্টার্সকে ঝাড়া পাঁচ গোল দিল জুয়ান ফেরান্দোর দল। সাত গোলের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৫-২ গোলে জিতল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। হ্যাটট্রিক করে জয়ের নায়ক অস্ট্রেলীয় বিশ্বকাপার দিমিত্রি পেত্রাতোস। ডার্বির আগে স্বস্তির বিরাট জয়ই শুধু নয়, চাপে থাকা জুয়ান তাঁর চাকরিও আপাতত বাঁচালেন। শুরুর হলুদ ঝড় থামিয়ে মোহনবাগানকে জয়ের রাস্তায় ফেরাতে সাহায্য করলেন দিমিত্রি, জনি কাউকো, হুগো বুমোস, লিস্টন কোলাসোরা। দিমিত্রির হ্যাটট্রিক ছাড়া বাগানের বাকি দু’টি গোল কাউকো এবং লেনি রডরিগেজের। মাঠ জুড়ে খেলে ঝলমল করলেন হুগোও।

প্রথম ম্যাচে দাপটে ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর আত্মবিশ্বাস নিয়ে ঘরের মাঠে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল কেরালা ব্লাস্টার্স। দর্শক ঠাসা কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শুরু থেকে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল ইভান ভুকোমানোভিচের দল। সেই লক্ষ্যে প্রথম মিনিট থেকে আক্রমণে ঝড় তুলেছিল কেরাল। ৭ মিনিটেই প্রথম গোল তুলে নেয় কেরাল। সাহালের সঙ্গে ওয়ান টাচ মুভমেন্টে অনবদ্য গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইভান। পিছিয়ে পড়েও দমে যাননি জুয়ানের ছেলেরা। বরং প্রতিআক্রমণে পাল্টা চাপ বাড়াতেই নড়ে যায় কেরালের ডিফেন্স। ২৬ মিনিটে গোল শোধ করে দেয় মোহনবাগান। বাঁ-দিক থেকে বল নিয়ে অনেকটা দৌড়ে বিপক্ষ বক্সে ঢুকে পড়েন হুগো বৌমোস। ফাঁকায় দাঁড়ানো দিমিত্রিকে বল বাড়ালে গোল করতে কোনও ভুল করেননি অস্ট্রেলীয় বিশ্বকাপার। কেরাল ডিফেন্সের দূর্বলতা কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটায় সবুজ-মেরুন। ৩৮ মিনিটে মনবীর সিং ও জনি কাউকোর দুরন্ত বোঝাপড়ায় গোল করে এগিয়ে যায় জুয়ানের দল। মনবীরের ফরোয়ার্ড পাস থেকে ডান পায়ের জোরাল শটে গোল করেন কাউকো।

খেলায় সমতা ফেরানোর চেষ্টায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে সবুজ-মেরুন রক্ষণে চাপ বাড়ায় কেরাল। ব্র্যান্ডন হ্যামিল আত্মঘাতী গোল প্রায় করেই ফেলেছিলেন। কিন্তু ৬২ মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ফেলে মোহনবাগান। হুগোর বাড়ানো বল লিস্টন বক্সে সাজিয়ে দিলে নিশ্চিন্তে গোল করে যান সেই দিমিত্রি। তবে এর পর কেরাল দাপিয়ে বেড়াল ম্যাচে ফেরার চেষ্টায়। ৮১ মিনিটে গোলরক্ষক বিশাল কাইথের ভুলে দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায় কেরল। গোলদাতা রাহুল কেপি। তবে খেলার শেষ মুহূর্তে আরও দু’টি গোল করে জয় নিশ্চিত করে মোহনবাগান। পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমে গোল করেন লেনি। ইনজুরি টাইমে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন দিমিত্রি।

আরও পড়ুন:কলকাতা লিগে দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় মহামেডানের, ভবানীপুরকে ৩-০ গোলে হারাল সাদা-কালো ব্রিগেড

Previous articleকলকাতা লিগে দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় মহামেডানের, ভবানীপুরকে ৩-০ গোলে হারাল সাদা-কালো ব্রিগেড