স্পেনের ৯৯৪ পাসে ৭-০ গোলে কোস্টারিকার অসহায় আত্মসমর্পণ

স্পেনের আক্রমণাত্মক ফুটবলের কাছে মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারল না কোস্টারিকা

বড় ব্যবধানে জয় স্পেনের। ৭-০ গোলে পর্যুদস্ত কোস্টারিকা। প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে কোস্টারিকার জালে জড়াল আরও ৪ টি গোল। বড় ব্যবধানে জয় দিয়েই বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করল লুইস এনরিকের দল। স্পেনের আক্রমণাত্মক ফুটবলের কাছে মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারল না কোস্টারিকা। কাতার বিশ্বকাপে আল থুমামা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় বিশ্ববাসী উপভোগ করল তারুণ্যের জয়গান। মাঠে যথেষ্টই দক্ষতার নজির রাখল স্পেনের গাভি-পেদ্রিরা।

এই জয়ে স্পেন পেয়েছে বিশ্বকাপে নিজেদের সবচেয়ে বড় জয়টি। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে ৬-১ গোলের জয়টিই আজকের আগ পর্যন্ত ছিল বিশ্বকাপে স্পেনের সবচেয়ে বড় জয়। পেদ্রি, গাভি, মার্কো আসেনসিও, দানি ওলমো, ফেরান তোরেসরা আজ কোস্টারিকাকে চেপে ধরেছিলেন গড়েছেন বড় জয়ের নতুন রেকর্ড।

ম্যাচের প্রথমার্ধের পুরোটাতেই স্পেনের দুই তরুণ তারকা গাভি-পেদ্রি ব্যতিব্যস্ত রেখেছিলেন কোস্টারিকা দলকে। দুজনের মিলিত বয়স মাত্র ৩৭। স্পেনের নতুন দিনের দলে এ দুজন যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন অচিরেই, সেটি আগেই প্রমাণ করেছিলেন তাঁরা, বুধবার আল বায়ত স্টেডিয়ামে নতুন করেই সেটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন দুজন। সঙ্গে মার্কো আসেনসিও, ফেরান তোরেসরাও খেলেছেন চমৎকার। কোচ লুইস এনরিকে আজকের ম্যাচের পর নিজের দলকে নিয়ে আশাবাদী হতেই পারেন। এই তরুণদের সঙ্গে অভিজ্ঞ সের্হিও বুসকেটসও নেতৃত্ব দিয়েছেন ছন্দোবদ্ধ ফুটবলে।৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে স্পেন। এই অর্ধে স্পেনের শেষ হওয়া পাসের সংখ্যা ছিল ২৫০।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে চতুর্থ গোল পায় স্পেন। গোল করেন ফেরান তোরেস। গাভির কাট ব্যাক থেকে বক্সের মাথায় বল পেয়ে যান তোরেস। কিন্তু তিনি বলটা পায়ে রাখতে পারেননি। আজকের ম্যাচে কোস্টারিকা যে কতটা অসহায় ছিল, সেটির প্রমাণ এই গোলটি। কোস্টারিকান রক্ষণ যেন তোরেসের পায়ে আবার বল তুলে দেওয়াকে দায়িত্বই মনে করল। খুব সহজেই গোলটা পেয়ে যান তোরেস। ৭৫ মিনিটে স্পেনকে ৫-০ গোল এগিয়ে নেন গাভি।

এই ম্যাচে মাঠে নেমে গাভি দারুণ একটা রেকর্ড করেছেন। তিনি বিশ্বকাপে স্পেনের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। ৭৫ মিনিটের গোলটি তাঁকে এনে দেয় আরও একটি রেকর্ডের মালিকানা। এই গোলে তিনি স্পেনের জার্সিতে বিশ্বকাপে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছেন ইতিহাসে।

৯০তম মিনিটে স্পেনের দুই বদলি খেলোয়াড়ের সমন্বয়ের পায় ষষ্ঠ গোল। নিকো উইলিয়ামস কোস্টারিকার মাতারিতাকে বোকা বানিয়ে বক্সের মধ্যে যে চমৎকার ক্রসটি করেন, সেটি কেবল গোল ঠেলে দেন কার্লোস সোলের। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে স্পেন স্কোরলাইন করে ফেলে ৭-০। দর্শকেরাও উপহার পায় আরও একটি দুর্দান্ত গোল। মোরাতা কোস্টারিকার বক্সের মাথায় বল উল্টো দিকে ফিরে বলটি পেয়েছিলেন। ঘুরে, জায়গা করে নিয়ে তিনি দানি ওলমোর সঙ্গে দেয়াল পাস খেলে বোকা বানান কোস্টারিকান গোলকিপার কেইলর নাভাসকে।

 

Previous articleরাজ্যে শীতকালীন দূষণ নিয়ন্ত্রণে বড়সড় পদক্ষেপ পরিবেশ দফতরের