Saturday, April 25, 2026

আদালতের নির্দেশের পরই খুলল জ্ঞানবাপীর বন্ধ তেহখানা! মধ্যরাতেই বিশেষ পূজার্চনা হিন্দু পক্ষের

Date:

Share post:

বুধবারই বড়সড় নির্দেশ দিয়ে বারাণসী জেলা আদালত (Varanasi District Court) সাফ জানিয়েছিল জ্ঞানব্যাপী মসজিদের (Gyanvapi Mosque) নীচে অবস্থিত তেহখানায় পুজো করতে পারবে হিন্দু পক্ষ। আর সেই রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার দীর্ঘ ৩১ বছর বাদে খুলল জ্ঞানব্যাপী মসজিদের নীচের তলা। বুধবার মধ্যরাতে একেবারে মসজিদের ‘ব্যাস কা তেহখানা’র ব্যারিকেড সরিয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে, কড়া নিরাপত্তায় পুজো হল মসজিদের নীচে। জানা গিয়েছে, কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ট্রাস্টের সদস্য় গনেশ্বর শাস্ত্রী দ্রাবিড় পুজো করেন। পাশাপাশি এদিন মঙ্গলারতিও করা হয়। পুজোর সময় উপস্থিত ছিলেন বারাণসীর জেলাশাসক কৌশল রাজ শর্মা ও মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রাক্তন ও বর্তমান কর্তারা।

বুধবার আদালতের তরফে হিন্দু পক্ষকে জ্ঞানব্যাপী মসজিদের নীচের তলে পুজো করার নির্দেশ দেওয়ার পরই বিকেল সাড়ে ৫টায় ট্রাস্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জেলাশাসক। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ জ্ঞানব্যাপী মসজিদে পৌঁছন জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।এরপরই ডেকে পাঠানো হয় কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ট্রাস্টের তরফে গণেশ্বর শাস্ত্রী দ্রাবিড়কে। তারপর মসজিদের নীচে ব্যারিকেড সরিয়ে রাত ১টা নাগাদ মসজিদের নীচে ‘ব্যাস কা তেহখানা’য় প্রবেশ করেন হিন্দু পক্ষের মামলাকারীরা। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার, কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের পুজারী সহ মোট পাঁচজন। সূত্রের খবর, আদালতের নির্দেশ মেনে ওম প্রকাশ মিশ্র নামক এক পুরোহিতকে গর্ভগৃহে পুজোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ট্রাস্টের তরফে।

 

জ্ঞানব্যাপী মসজিদের নীচে তেহখানায় পুজো দেওয়ার পর বেরিয়ে হিন্দু পক্ষের মামলকারী সোহন লাল আর্য ও লক্ষ্মী দেবী বলেন, “আমরা তেহখানায় অবস্থিত ব্যাসজির দর্শন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশ সেই অনুমতি দেয়নি। আশা করছি শীঘ্রই সাধারণ হিন্দু ভক্তদেরও পুজো করার অনুমতি দেওয়া হবে।” ৩০ বছর আগে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর উত্তর প্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদবের শাসনকালে ওই তেহখানায় পূজা-অর্চনা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা আদালত। মসজিদের অভ্যন্তরে হিন্দু দেব দেবীর নিত্য–আরাধনার দাবিতে মামলাকারীদের অন্যতম আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন সংবাদমাধ্যমকে জানান, “এতদিনে এক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো”। অন্যদিকে, মসজিদ কমিটির পক্ষে আখলাখ আহমেদ জানান, “ওই বেসমেন্টে কোনও মূর্তিও কোনো দিন ছিল না। বেসমেন্টটি এখনও রয়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষের হাতে। যা হচ্ছে, তা অন্যায়”।

 

 

 

 

Related articles

যেখানে আশা করিনি সেখানেও জিতবে তৃণমূল, ভবানীপুরের সভা থেকে আত্মবিশ্বাসী নেত্রী

এবারের ভোট এসআইআরের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। যেখানে আশা করিনি, সেখানেও জিতব। ভবানীপুরের সভা থেকে দৃঢ় কণ্ঠে জানালেন নেত্রী মমতা...

ভোটের ডিউটির মাঝেই মর্মান্তিক পরিণতি, কালনায় মৃত্যু বিএলও-র

প্রচণ্ড গরম আর কাজের অত্যধিক চাপই কি কেড়ে নিল প্রাণ? কালনা মহকুমা শাসকের দফতরে নির্বাচনী কাজ করার সময়...

আমার মা-কে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছিল: ফিরহাদের প্রচারে সম্প্রীতির উদাহরণ তুলে ধরলেন মমতা

বাংলায় ধর্ম-জাত-পাতের ভেদাভেদ যে কোনও দিনও নেই বারেবারে তা প্রমাণিত হয়েছে। বাংলার শান্তিপ্রিয় মানুষ কীভাবে বিপদে একের অন্যের...

শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা! প্রতিবাদে সরব দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ 

কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদ এবং রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিরোধিতায় সরব হল ‘দেশ বাঁচাও...