Sunday, January 11, 2026

রাজনৈতিক দলকে ‘না’! বুথের ভিডিও বেসরকারি সংস্থাকে দিল নির্বাচন কমিশন

Date:

Share post:

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন দাবি করেছিল ভোটারদের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও রাজনৈতিক দলকেই নির্বাচনের দিনের বুথের ভিতরের ভিডিও দেওয়া যাবে না। অথচ ২০১৯ তৎকালীন তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি (TRS), বর্তমানের বিআরএস-কে (BRS) সেই সব ভিডিও দিয়েছিল ভারতের নির্বাচন কমিশনই (Election Commission)। শুধু রাজনৈতিক দল, বিআরএস নয়, একটি বেসরকারি সংস্থাকেও দেওয়া হয়েছিল বুথের ভিতরের ভোটদান চলাকালীন ভিডিও (video recording)। নির্বাচনী ভোটার তালিকায় একের পর এক গরমিল করার পর এবার দেশের ভোটারদের ভিডিও নিয়ে কতটা ‘দায়িত্বশীল মিথ্যাচার’ চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন, তা নিয়ে প্রশ্ন বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের।

২০১৯ সালে তেলেঙ্গানার (Telengana) তৎকালীন শাসকদল টিআরএস, বর্তমানের বিআরএস, পেনশন প্রকল্পের যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের থেকেই ভোটারদের ভোটাদানের ভিডিও পেয়েছিল। সম্প্রতি একটি আরটিআই-এর (RTI) উত্তরে দেখা গিয়েছেন শুধু তথ্য যাচাই করার বেসরকারি সংস্থা নয়, শাসকদল টিআরএস-ও পেয়েছিল সেইসব ভিডিও। সেই সময়ে জীবিত পেনশন প্রাপকের তথ্য যাচাই করতে যে সব তথ্য হাতে পেয়েছিল বেসরকারি সংস্থাটি, তার মধ্যে ছিল ভোটারদের ভোটদানের ভিডিও। সেই ভিডিও থেকেই না কি যাচাই করা হয়েছিল, জীবিত পেনশন প্রাপকের তৎকালীন ছবি।

নিজেদের স্বচ্ছ দাবি করা নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকায় নাম ঢোকানো থেকে নাম মুছে দেওয়া নিয়ে কারচুপি প্রকাশ্যে এনেছে দেশের বিরোধী দলগুলি। সেই রাস্তা প্রথম দেখিয়েছিল বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ফের একবার কমিশনের মিথ্যাচার সামনে আনলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)।

এবছর জুন মাসে বিরোধী দলগুলির ভোটদানের ভিডিও দাবি করার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন দাবি করেছিল, কোনও ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল, এনজিও বা সংস্থার হাতে দেওয়া হবে না ভোটারদের সম্মতি ছাড়া। তাতে ভোটারদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। এরপরেও সেই নির্বাচন কমিশনই দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলিকে সেই ভিডিও ফুটেজ (video recording) না দিয়ে, দিয়েছিল টিআরএস-কে (TRS)। এমনকি বেসরকারি সংস্থাও তার নাগাল পেয়েছিল।

আরও পড়ুন: এবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগে সরব রাহুল! কর্নাটকের উদাহরণ তুলে গুরুতর অভিযোগ

সেখানেই তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর প্রশ্ন, তাহলে নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারের মিথ্যাচার আবারও ধরা পড়ল। বলেছিলেন গোপণীয়তার জন্য বুথ ভিডিও রেকর্ডিং, সিসিটিভি ফুটেজ কাউকে দেওয়া যাবে না। তা সত্ত্বেও গোটা তেলেঙ্গানার নির্বাচন কমিশনের ডেটাবেস কীভাবে তুলে দেওয়া হল হায়দ্রাবাদের বেসরকারি তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা পসিডেক্স টেকনোলজিসের হাতে।

spot_img

Related articles

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলায় কড়া নজর কমিশনের! প্রথম রিপোর্টেই শুভেন্দু-চম্পাহাটি প্রসঙ্গ

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কেমন, তা নিয়ে প্রতি সপ্তাহে এবার সরাসরি রিপোর্ট নেবে নির্বাচন কমিশন। বছরের শুরুতেই...

নতুন বছরে পর্যটকদের বড় উপহার, ফের চালু দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের জঙ্গল সাফারি

নতুন বছরের শুরুতে পাহাড়প্রেমী পর্যটকদের জন্য খুশির খবর শোনাল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফের...

মোদির গুজরাটে চোরাশিকার! উদ্ধার ৩৭টি বাঘ ছাল, ১৩৩টি নখ-দাঁত

আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) দেশের বিভিন্ন জঙ্গলে সাফারিতে যান। বিদেশ থেকে আনা নতুন বিভিন্ন...

অব্যহতি দেয়নি কমিশন: আত্মহত্যায় ‘বাধ্য’ হলেন মুর্শিদাবাদের BLO

অতিরিক্ত কাজের চাপে তাঁর শরীর খারাপ হত। তারপরেও অব্যহতি মেলেনি নির্বাচন কমিশনের এসআইআর-এর কাজ থেকে। ক্রমশ বেড়েছে কাজের...