Wednesday, March 25, 2026

দুর্যোগে মহারাষ্ট্রকে দেড় হাজার কোটি, বাংলাকে শূন্য! বিজেপির বঞ্চনা ফাঁস করলেন শিণ্ডে

Date:

Share post:

কখনও ডিভিসির ছাড়া জলে দক্ষিণ বঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা বানভাসি। কখনও প্রবল বর্ষণ ও ধসে (landslide) বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ (North Bengal)। চলতি বছরে বাংলার মানুষ বারবার প্রকৃতি ও মানুষের সৃষ্টির করা দুর্যোগে প্রবলভাবে বিপর্যস্ত। তা সত্ত্বেও বাংলার মানুষের জন্য এতটুকু প্রাণ কাঁদেনি কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সরকারের। যে ধসে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার কার্যত গোটা ভূমিরূপই বদলে গিয়েছে, সেখানে কেন্দ্র থেকে এক পয়সার সাহায্য পায়নি বাংলা। অথচ বন্যা বিপর্যস্ত মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) জন্য দেড় হাজার কোটি অর্থ সাহায্য পাঠালো কেন্দ্রের সরকার। মহারাষ্ট্রের এই অর্থ সাহায্যের কথা উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডে (Eknath Shinde) সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানানোর পরই স্পষ্ট হয়ে যায় কেন্দ্রের বঞ্চনার ছবিটা।

উত্তরবঙ্গ থেকে ঘুরে এসে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary) দাবি করেছিলেন, মিরিকে ধসে যে বিপর্যয় হয়েছে তাতে সেই সব এলাকায় আর বাড়ি তৈরিই সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে নতুন জায়গা নির্দিষ্ট করে তাঁদের বাড়ি তৈরির ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু কাকে? রাজ্য সরকারের উপরই সব দায় চাপান বিরোধী দলনেতা (leader of opposition)। তবু কেন্দ্রের থেকে এক পয়সা সহযোগিতা আনার কথা তিনি বলেননি। অথচ না চাইতেই মহারাষ্ট্র (Maharashtra) পেল দেড় হাজার কোটির বেশি। কারণটাও অনুমান করা খুব সহজ। ডবল ইঞ্জিন (double engine) রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের পক্ষপাতিত্ব।

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানান, মহারাষ্ট্রের বন্যা বিধ্বস্ত মানুষের জন্য কেন্দ্রের সরকার ১,৫৬৬ কোটি টাকার সাহায্যের (central aid) ঘোষণা করেছে। এতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা পৌঁছে দিতে, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত সহযোগিতাও পৌঁছে দেওয়ার কাজ যত দ্রুত সম্ভব করা যাবে। কেন্দ্রের সরকারের এই সহযোগিতায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতেও ভোলেননি শিণ্ডে।

আরও পড়ুন: রাশিয়ার তেল নিয়ে নতুন হুমকি ট্রাম্পের: আরও পিচ্ছিল ভারতের তেলের পথ

আর সেখানেই স্পষ্ট বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার ছবিটা। উত্তরবঙ্গে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বরা বারবার ‘সফর’ করেছেন। তা সত্ত্বেও কেন্দ্রের থেকে উত্তরবঙ্গের সর্বহারা মানুষের জন্য অর্থ সাহায্যের ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসেননি তাঁরা। কেন্দ্রের সরকারের থেকে কোনও সহযোগিতা যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যাশাও করেন না। ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর তৈরি করা থেকে মৃতদের পরিবারকে চাকরির নিশ্চয়তা প্রদান – সব ব্যবস্থাই রাজ্যের সরকার করেছে। যদিও এরপরেও প্রায় একই সময়ে বন্যার কবলে পড়া মহারাষ্ট্রের জন্য দেড় হাজার কোটি বরাদ্দ করার ঘোষণা পক্ষপাতিত্বের চরম উদাহরণ। এমনকি এই পর্বে বন্যা বিপর্যস্ত কর্ণাটককেও (Karnataka) আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে কেন্দ্রের সরকার। অথচ বঞ্চিত থাকল শুধুই বাংলা।

Related articles

কেমন আছেন সোনিয়া গান্ধী: রাতে হাসপাতালে প্রিয়াঙ্কা

রাজ্যসভার সাংসদ তথা কংগ্রেসের সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi) মঙ্গলবার রাতে আচমকা অসুস্থ হয় পড়ায় তাঁকে...

ভোটের আগে ২৩টি কমিটি-পর্ষদের শীর্ষপদ থেকে ইস্তফা মুখ্যমন্ত্রীর

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিয়ম মেনে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, কমিটি ও পর্ষদের শীর্ষপদ থেকে ইস্তফা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা...

‘গোটা রাজ্য’ অ্যাডজুডিকেশনে! রাজ্যের মানুষের রক্তচাপ বাড়িয়ে নতুন ‘খেলা’ কমিশনের

নির্বাচন কমিশন চলতি এসআইআর প্রক্রিয়া যেভাবে এআই এবং কমিশনের নতুন নতুন উদ্ভাবনী ক্ষমতার দ্বারা পরিচালিত করছে তাতে গোটা...

বিরোধীদের তীব্র আপত্তি উড়িয়ে লোকসভায় পাশ রূপান্তরকামী সংশোধনী বিল

প্রবল বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার লোকসভায় পাশ হয়ে গেল রূপান্তরকামী ব্যক্তি (অধিকার সুরক্ষা) সংশোধনী বিল, ২০২৬। সংশোধিত এই বিল...