Wednesday, January 14, 2026

শেষবার দেখা হল না ছেলেকে, শোকে বিহ্বল রামপুকার

Date:

Share post:

লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই দুর্দশা বেড়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের। মাইলের পর মাইল হেঁটে বাড়ি ফিরেছেন তাঁরা। কেউ আবার গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই পৃথিবী ছেড়েছেন। আবারও এক পরিযায়ী শ্রমিকের দুর্দশার ছবি সামনে এলো।

মৃত্যুশয্যায় ছেলে। তাকে শেষবার দেখার জন্য দিল্লি থেকে হাঁটতে শুরু করেছিলেন রামপুকার পণ্ডিত। কিন্তু পথেই খবর পেলেন ছেলে আর নেই। কান্নায় ভেঙে পড়েন রামপুকার। বিলাপের মতো বলে চলেন, “আমাদের মতো পরিযায়ী শ্রমিকদের কোনও জীবন নেই। সাইকেলের চাকার মতো জীবন। ঘুরছি তো ঘুরছি।”

দিল্লিতে একটি সিনেমা হল নির্মাণের কাজ করতেন রামপুকার। ১১ মে তাঁকে দিল্লির নিজামুদ্দিন ব্রিজের কাছে দেখতে পান সংবাদ সংস্থার চিত্রগ্রাহক। সেই ছবিতে দেখা যায় কানে ফোন ধরে কাঁদছেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের জানান, ১২০০ কিলোমিটার দূরে তাঁর বাড়ি। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিল ছেলে। শেষবারের মতো ছেলেকে দেখতে বাড়ি ফিরতে চাইলেও অনুমতি দেয়নি পুলিশ। তাঁর অভিযোগ, উপরন্তু পুলিশ বলেছেন, “তুমি গেলে কি ছেলে সুস্থ হবে?” এরপর এক সাংবাদিক রামপুকার পণ্ডিতকে টাকা দিয়ে বাড়ি ফেরার বিশেষ ট্রেনের টিকিট কেটে দেন। কিন্তু পথেই খবর পান ছেলে রামপ্রবেশের মৃত্যু হয়েছে। শেষকৃত্যে যেতে পারেননি। ঠাঁই হয়েছে বেগুসরাইয়ের কোয়ারেন্টাইনে।

spot_img

Related articles

হাই কোর্টে নিয়ন্ত্রণ শুনানি পর্ব: বুধে ইডি-আইপ্যাক মামলার আগে জারি নির্দেশিকা

একদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। অন্যদিকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দুপক্ষের দায়ের করা মামলা কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta...

চন্দ্রকোণায় প্রতিবাদ মিছিল শুভেন্দুর: কাল্পনিক, ভিত্তিহীন অভিযোগ, দাবি তৃণমূলের

আরও একবার বিরোধী দলনেতা নিজের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় করার চেষ্টায়। নির্বাচনের আগে কোনও ইস্যু...

আক্রান্ত উত্তর ২৪ পরগনায় দুই নার্স! নিপা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের

রাজ্যে ফের নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত দুই নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাসের...

রাজনীতির রঙ ভুলে শেষ শ্রদ্ধা সমীর পুততুণ্ডকে: দেহ দান এসএসকেএমে

বাংলার রাজনীতি যে সবসময় সৌজন্য শেখায় তা আবার এক মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেল। মঙ্গলবার প্রয়াত পিডিএস...