কর্নাটকের বাসিন্দা কিশোর ইন্দুকুরির ঝুলিতে রয়েছে আমেরিকার নামজাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পিএচইডি ডিগ্রি।তিনি আইআইটি-র স্নাতক। তারপর চাকরি নিয়ে চলে গিয়েছিলেন বিদেশে। প্রতিষ্ঠিতও হয়েছিলেন সেখানে। কিন্তু কিছুতেই মন বসাতে পারছিলেন না ভিনদেশে। তাই ফিরে আসেন দেশে। কিন্তু এখানে ফিরে নতুন কোনও চাকরিতে আর যোগ দেননি। বরং স্বাধীনভাবে শুরু করেন গোরুর দুধের ব্যবসা।আর সেই ব্যবসার হাত ধরেই বর্তমানে তিনি কোটিপতি।

জানলে অবাক হবেন যে শুধুমাত্র দুধ বিক্রি করে দিনে ১৭ লক্ষ টাকা আয় করেন তিনি। হায়দরাবাদে সিড’স ফার্ম নামে কিশোরের ডেয়ারির ব্যবসা শুরুর আগের কাহিনি সিনেমার চিত্রনাট্যেকেও হার মানাবে।ইন্দুকুরির জন্ম হায়দরাবাদের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। বাবা বেসরকারি সংস্থায় ইঞ্জিনিয়ার।খড়্গপুর আইআইটি থেকে রসায়নে ডিগ্রি লাভ করেন। এর পর উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা পাড়ি দেন।
আমেরিকার ম্যাসাচুসেট্স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে স্নাতকোত্তরের পড়াশোনার পর সেখান থেকেই পিএইচডি করেন।বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার জন্য যে সব পরীক্ষা দিতে হয় এ দেশের পড়ুয়াদের, তার প্রশিক্ষণ শুরু করেন তিনি।কিন্তু তাতে বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি।এরপর সব্জি চাষে মন দেন কিশোর। সব্জি বিক্রির সংস্থাও খুলেছিলেন। এ সব করতে গিয়ে তত দিনে চাকরি থেকে সঞ্চয়ের ১ কোটি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে।তবুও হতোদ্যম হননি কিশোর।

২০১২ সালে একসঙ্গে ২০টি গরু কিনে ডেয়ারির ব্যবসা শুরু করেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে সময় লিটারপ্রতি ১৫ টাকায় দুধ বিক্রি করত তাঁর সংস্থা।১ লিটার দুধের দাম ১৫ টাকা রাখলেও তা তৈরি করার খরচ ছিল ৩০ টাকা। নিজের সংস্থার বাজার ধরতে গোড়ায় মার্কেটিং দল ছিল না কিশোরের। ফলে নিজেই শুরু করেছেন বিপণন। ক্রেতাদের বলতেন, তাঁর সংস্থার দুধে জল মেশানো নেই। নেই ক্ষতিকারক হরমোনের উপস্থিতি।

বিক্রিবাটা বাড়াতে অনেক সময় ক্রেতাদের নিজের সংস্থার দুধ চেখে দেখার সুযোগ দিতেন কিশোর। সে সুযোগ নিলেও ক্রেতাদের পরে টাকা মেটালেও হত। এই বিপণন কৌশল কাজে এসেছিল। দৈনিক ক্রেতার সংখ্যাও হাজারের গণ্ডি ছাড়ানোয় এক সময় তার সংস্থায় গরুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ১০০টি।লাভের মুখ দেখতে শুরু করায় কিশোরের সংস্থায় কর্মীসংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। ১.৩ কোটির বেশি টাকা ঋণ নিয়ে শাহবাদ এলাকায় একটি বিশাল ফার্ম কিনে ফেলেন কিশোর।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে কিশোরের আয় ছিল ৪৪ কোটি টাকা। পরের বছর অর্থাৎ ২০২১-২২ সালে তা বেড়ে হয় ৬৪.৫ কোটি টাকা। বর্তমানে এই দুধ বিক্রি করেই তাঁর দৈনিক রোজগার হয় ১৭ লক্ষ টাকা।








